ইরানের অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলার বিষয়ে ট্রাম্পের হুমকি বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যে অবশিষ্ট সব গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস করে দেওয়া হবে। ইরানের খতম আল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাঘারি এমন হুশিয়ারি দিয়েছেন বলে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সংবাদ প্রকাশ করেছে মেহের নিউজ এজেন্সি।

জোলফাঘারি বলেন, ‘অপরাধী আমেরিকা’ অঞ্চলজুড়ে আইনভঙ্গ ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির নীতি অব্যাহত রেখেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোনো অবস্থাতেই যুক্তরাষ্ট্রকে একটি বহিরাগত শক্তি হিসেবে হরমুজ প্রণালিতে হস্তক্ষেপ করতে দেবে না ইরান। তার ভাষায়, হরমুজ প্রণালি ইরানের একটি অলঙ্ঘনীয় লাল রেখা।

তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ‘ফাঁপা ও ভিত্তিহীন’ প্রেসিডেন্ট যদি ইরানের অবকাঠামো লক্ষ্য করে সাম্প্রতিক হুমকি বাস্তবায়ন করেন তাহলে ইরানের সংযমের কারণে এখন পর্যন্ত যা কিছু অবশিষ্ট রয়েছে (মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের সব অবকাঠামো) ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনীর ইস্পাতসম আঘাতে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যাবে। এমনভাবে ধ্বংস হবে যে, সেগুলোর অস্তিত্ব ছিল বলেও মনে হবে না।

জোলফাঘারি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বোকা শত্রুর জানা উচিত, আমাদের জন্য সংকটের মুহূর্ত এড়িয়ে যাওয়ার সময় নয় বরং ইতিহাস গড়ার সময়। ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর জবাব সমান মাত্রার হবে না তা হবে আরও শক্তিশালী, আরও ব্যাপক এবং আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে আরও বিধ্বংসী।

প্রসঙ্গত, জেনেভা শহরে আলোচনা চলা অবস্থায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালায় মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথবাহিনী। এতে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ বেশকিছু শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন। এর প্রতিবাদে ৩৯ দিনে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ১০০ দফা হামলা চালায় ইরান।

এরপর ইরানের ১০ দফা প্রস্তাবের ভিত্তিতে ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেন ট্রাম্প। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয় এবং ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে সরাসরি বৈঠক করেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা। আলোচনা ফলপ্রসূ না হওয়া ১৩ এপ্রিল হরমুজে নৌ-অবরোধ আরোপ করা হয়। এরপর কয়েক দফা যুদ্ধবিরতির সময় বাড়ান ট্রাম্প।

সর্বশেষ, ইরানের ১৪ দফা শর্তের ভিত্তিতে গট ১৮ জুন একটি সমঝোতায় পৌঁছায় দুই পক্ষ। অ্যাক্সিওস এর সংবাদের তথ্য মতে, ১৪ দফার ভিত্তিতে দুই পক্ষ ৬০ দিনের জন্য আলোচনায় সম্মত হয়েছে এবং ইরানের ওপর হামলা তথা যুদ্ধ বন্ধের বিনিময়ে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হয়েছে।

ইরানের লিগ্যাল মেডিসিন সংস্থার তথ্যমতে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত সংঘাতে মোট ৩ হাজার ৩৭৫ জন নিহত হন, যার মধ্যে ২ হাজার ৮৭৫ জন পুরুষ এবং ৪৯৬ জন নারী। এছাড়া জরুরি চিকিৎসা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এই যুদ্ধে ১১৮ জন চিকিৎসাকর্মী আহত হন এবং ২৬ জন নিহত হন।

কেএম