মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের কথিত গোপন পারমাণবিক স্থাপনা ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’-কে সম্ভাব্য সামরিক লক্ষ্যবস্তু হিসেবে উল্লেখ করায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ভূগর্ভে নির্মিত এই স্থাপনাটি ইরানের অন্যতম সুরক্ষিত পারমাণবিক অবকাঠামো বলে মনে করা হচ্ছে, যা মার্কিন বাহিনীর শক্তিশালী ‘বাঙ্কার-বাস্টার’ বোমার নাগালেরও বাইরে থাকতে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সালেম নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনে সেখানে হামলা চালানো হতে পারে। ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা আবারও বেড়েছে।
ফারসি ভাষায় ‘কুহ-ই-কলাং’ নামে পরিচিত পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন মূলত মধ্য ইরানের নাতাঞ্জ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রের কাছের একটি পাহাড়ের গভীরে নির্মিত বিশাল ভূগর্ভস্থ কমপ্লেক্স। স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ অনুযায়ী, প্রায় ২০২০ সালে এর নির্মাণকাজ শুরু হয়। ইরান এটিকে সেন্ট্রিফিউজ সংযোজন কারখানা হিসেবে দাবি করলেও আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরিদর্শকদের সেখানে পূর্ণাঙ্গ প্রবেশাধিকার দেওয়া হয়নি।
স্যাটেলাইট চিত্রে পাহাড়ের ভেতরে বিস্তৃত সুড়ঙ্গ ও খননকাজের প্রমাণ মিলেছে। তবে স্থাপনাটির প্রকৃত উদ্দেশ্য এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। পশ্চিমা দেশগুলো ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এটি পারমাণবিক কর্মসূচির অত্যন্ত সংবেদনশীল কার্যক্রম পরিচালনার জন্য তৈরি করা হয়েছে। অন্যদিকে ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রানাইট শিলার প্রায় ৬০০ মিটার গভীরে নির্মিত হওয়ায় এই স্থাপনায় সামরিক হামলা চালানো অত্যন্ত কঠিন। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে শক্তিশালী বাঙ্কার-বাস্টার বোমাও এটি সম্পূর্ণ ধ্বংস করতে পারবে কি না, তা নিয়েও সংশয় রয়েছে।
সাম্প্রতিক সংঘাতে নাতাঞ্জ, আরাকের খোন্দাব ভারী পানি কমপ্লেক্স, ইসফাহানের ইউরেনিয়াম রূপান্তর ও ধাতুবিদ্যা কেন্দ্র এবং ইয়াজদ প্রদেশের আরদাকানের ইয়েলো কেক উৎপাদন কেন্দ্রসহ ইরানের একাধিক পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার খবর পাওয়া গেছে। তবে পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন এখনো অক্ষত রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা এটিকে ভবিষ্যৎ সংঘাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করেছে।








