মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সহযোগী লিন্ডসে গ্রাহাম মারা গেছে। ৭১ বছর বয়সি এই রাজনীতিবিদ নানা কর্মকাণ্ডে সমালোচিত ছিলেন। মূলত মার্কিন প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র নীতিতে কট্টরপন্থি অবস্থানের কারণে লিন্ডসে গ্রাহাম একজন অত্যন্ত বিতর্কিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তিনি রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইউক্রেনকে এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরাইলের দখলদারত্ব ও গাজা যুদ্ধ তীব্রভাবে সমর্থন করেছিলেন। এছাড়াও ইরাক, সিরিয়া ও লিবিয়ায় মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের পক্ষে থাকা, ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের আহ্বান জানানোর কারণে বিশ্বজুড়ে বিতর্কিত ছিলেন। খবর আল-জাজিরার।
ইসরাইলের প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন : ইসরাইলের প্রতি কট্টর সমর্থনে গ্রাহাম অনেক বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন। ২০১৭ সালে, প্রথম ট্রাম্প প্রশাসন তেল আবিব থেকে মার্কিন দূতাবাস জেরুজালেমে স্থানান্তরিত করার এক বছর আগে, গ্রাহাম এই পদক্ষেপের সমর্থনে একটি প্রস্তাবে স্বাক্ষর করেছিলেন এবং জেরুজালেমকে ‘ইসরাইলের অবিসংবাদিত রাজধানী’ বলে অভিহিত করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘আমাদের দূতাবাস তেল আবিব থেকে পশ্চিম জেরুজালেমে স্থানান্তরিত করা কোনো শান্তি প্রস্তাবের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।’ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস স্থানান্তরের এই পদক্ষেপের তখন বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনা হয়েছিল। গাজায় ইসরাইলের চালানো যুদ্ধটির প্রতিও গ্রাহামের পূর্ণ সমর্থন ছিল। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে, যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বজুড়ে এই যুদ্ধ বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ তীব্র আকার ধারণ করেছিল, তখন তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু বিতর্কিত ফিলিস্তিন-বিরোধী মন্তব্য করেছিলেন। এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে গ্রাহাম বলেছিলেন, ‘গাজার ফিলিস্তিনিরা এই গ্রহের সবচেয়ে উগ্রপন্থি জনগোষ্ঠী, যাদের জন্ম থেকেই ইহুদিদের ঘৃণা করতে শেখানো হয়। এই সমস্যা সমাধান করতে বহু বছর সময় লাগবে।’ গ্রাহাম এমন ইঙ্গিতও দিয়েছিলেন যে, গাজায় ইসরাইল কর্তৃক পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করাও যৌক্তিক হবে।
ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরাইলি যুদ্ধের ইন্ধন : এই মার্কিন সিনেটর ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন ও ইসরাইলের যুদ্ধেরও সমর্থক ছিলেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা হওয়ার পরপরই গ্রাহাম বলেছিলেন যে, এই ‘শাসনব্যবস্থাকে পতন করার’ জন্য অর্থ ব্যয় করা সার্থক। বিদেশে মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের দীর্ঘদিনের প্রবক্তা গ্রাহাম ফক্স নিউজ নেটওয়ার্ককে বলেছিলেন, ‘যখন এই শাসনব্যবস্থার পতন ঘটবে, তখন আমরা একটি নতুন মধ্যপ্রাচ্য পাব এবং আমরা প্রচুর অর্থ উপার্জন করব। এই শাসনব্যবস্থা এখন মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে; এটি হাঁটু গেড়ে বসে পড়বে, এর পতন ঘটবে। আর যখন এর পতন ঘটবে, তখন আমরা এমন শান্তি পাব যা অন্য কোনো সময়ে ছিল না, আমরা এমন সমৃদ্ধি পাব যা কেউ কখনো কল্পনাও করতে পারেনি।’








