ভালোবাসার সম্পর্কে সবাই যে হাসিখুশি, রোমান্টিক বা সবসময় অনুভূতি প্রকাশে পারদর্শী মানুষকে পছন্দ করেন, এমন নয়। অনেক সময় দেখা যায়, কম কথা বলা, নিজের আবেগ সহজে প্রকাশ না করা কিংবা রহস্যময় ব্যক্তিত্বের পুরুষদের প্রতিও অনেক নারী আকৃষ্ট হন।
তবে এর অর্থ এই নয় যে সব নারী একই ধরনের মানুষকে পছন্দ করেন। মানুষের আকর্ষণ ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হয়। তবুও মনোবিজ্ঞানের কিছু গবেষণা ও বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণে এমন কয়েকটি কারণ উঠে এসেছে, যা এই আকর্ষণের ব্যাখ্যা দিতে পারে।
যারা খুব সহজে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন না, তাদের সম্পর্কে কৌতূহল তৈরি হয়। মানুষ স্বভাবতই অজানা বিষয় জানতে আগ্রহী। তাই অনেক নারী মনে করেন, এমন একজন মানুষকে বুঝে ওঠা এক ধরনের চ্যালেঞ্জ। বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষের মন অনেক সময় এমন কিছুর প্রতিই বেশি আকৃষ্ট হয়, যা সহজে পাওয়া যায় না। যে মানুষটিকে ধরে রাখা কঠিন বলে মনে হয়, তাকে পাওয়ার ইচ্ছাও অনেকের মধ্যে বেড়ে যেতে পারে। তবে এই আকর্ষণ সব সময় সুস্থ সম্পর্কের ভিত্তি তৈরি করে না।
সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানী এসথার পেরেলে-র বলেন, ‘মিস্ট্রি ক্যান সাসটেইন ডিজায়ার’। অর্থাৎ, রহস্য অনেক সময় আকর্ষণকে দীর্ঘস্থায়ী করে।
আবেগ প্রকাশের ধরন সবার এক রকম নয়
আত্মবিশ্বাসী বলে মনে হতে পারে
সব আবেগ প্রকাশ না করা অনেক সময় আত্মবিশ্বাসের প্রতীক বলেও মনে হয়। যদিও সব ক্ষেত্রে এটি সত্য নয়, তবে সংযত আচরণকে অনেকেই মানসিক দৃঢ়তা হিসেবে দেখেন। এই ধারণা থেকেই অনেকের কাছে এমন পুরুষ আকর্ষণীয় হয়ে ওঠেন।
বদলে দেওয়ার মানসিকতা
মনোবিজ্ঞানীরা জানান, কিছু মানুষের মধ্যে অন্যকে বদলে দেওয়ার প্রবণতা কাজ করে। তারা বিশ্বাস করেন, সময়, ভালোবাসা ও যত্ন দিয়ে একজন আবেগহীন মানুষকেও নিজের অনুভূতি প্রকাশে উৎসাহিত করা সম্ভব। এই 'রেসকিউ ফ্যান্টাসি' বা কাউকে পরিবর্তন করার ইচ্ছাও অনেক সময় আকর্ষণের কারণ হয়।
শৈশবের অভিজ্ঞতার প্রভাব
শৈশবের পারিবারিক পরিবেশও ভবিষ্যতের সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলে। যেসব মানুষ ছোটবেলায় আবেগগতভাবে দূরত্বপূর্ণ সম্পর্কের মধ্যে বড় হয়েছেন, তারা অনেক সময় অজান্তেই একই ধরনের ব্যক্তিত্বের মানুষের প্রতি আকৃষ্ট হন।
মনোবিজ্ঞানী ড.স্যু জনসন বলেন, ‘উই আর শেইপ্ট বাই আওয়ার অ্যাটাচমেন্ট এক্সপেরিয়েন্সেস’। অর্থাৎ, শৈশবের সংযুক্তির অভিজ্ঞতা আমাদের প্রাপ্তবয়স্ক সম্পর্ককে প্রভাবিত করে।
সিনেমা ও গল্পের প্রভাব
সিনেমা, নাটক ও উপন্যাসে প্রায়ই দেখা যায়, গম্ভীর বা আবেগ লুকিয়ে রাখা একজন পুরুষ ধীরে ধীরে ভালোবাসার মানুষটির সামনে নিজেকে খুলে দেন। এই গল্পগুলো বাস্তব জীবনেও অনেকের প্রত্যাশাকে প্রভাবিত করতে পারে।
কম কথা মানেই আবেগহীন নয়
সব নীরব মানুষই আবেগহীন নন। কেউ কেউ ভালোবাসা প্রকাশ করেন কাজের মাধ্যমে, কথার মাধ্যমে নয়। মনোবিজ্ঞানে একে ভিন্ন ধরনের লাভ ল্যাংগুয়েজ হিসেবে দেখা হয়। তাই কম কথা বললেই তিনি অনুভূতিহীন-এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়।
অতিরিক্ত দূরত্ব সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর
অন্যদিকে, যদি কেউ সবসময় নিজের অনুভূতি চেপে রাখেন, কখনোই কথা বলতে না চান বা সঙ্গীর আবেগকে গুরুত্ব না দেন, তাহলে সম্পর্কে সমস্যা তৈরি হতে পারে। দীর্ঘদিন যোগাযোগের অভাব ভুল বোঝাবুঝি, মানসিক দূরত্ব ও অসন্তুষ্টি বাড়িয়ে দেয়।
জন গটম্যান যিনি দাম্পত্য সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিন গবেষণা করেছেন, বলেন, সাকসেসফুল রিলেশনশিপস ডিপেন্ড অন ইমোশনাল রেসপনসিভনেস অর্থাৎ, একটি সফল সম্পর্কের ভিত্তি হলো একে অপরের আবেগের প্রতি সাড়া দেওয়া।
আরও পড়ুন
সুখী দম্পতিরাও পরকীয়ায় জড়ায়, বলছে গবেষণা
কোনো মানুষ রহস্যময়, শান্ত বা কম কথা বলেন, এটি সম্পর্কের সমস্যা নয়। গুরুত্বপূর্ণ হলো, তিনি প্রয়োজনের সময় সঙ্গীর অনুভূতিকে গুরুত্ব দেন কি না, সম্মান করেন কি না এবং বিশ্বাস ও যোগাযোগ বজায় রাখতে পারেন কি না।
আরও পড়ুন
বসের প্রশংসা পেলেও ভয় লাগে, জানুন এর মনস্তাত্ত্বিক কারণ
শুধু ব্যক্তিত্বের রহস্য নয়, সুস্থ সম্পর্কের জন্য প্রয়োজন পারস্পরিক শ্রদ্ধা, খোলামেলা যোগাযোগ, বিশ্বাস এবং আবেগগত নিরাপত্তা। কারণ দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক টিকে থাকে শুধু আকর্ষণে নয়, বরং একে অপরকে বোঝার আন্তরিক চেষ্টায়।
সূত্র: সাইকোলজি টুডে, মিডিয়াম, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
এসএকেওয়াই








