যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির মধ্যে হুমকি-পাল্টা হুমকির উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। ট্রাম্পকে হত্যার যেকোনো প্রচেষ্টার জবাবে ইরানকে পুরোপুরি ‘ধ্বংস’ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। অন্যদিকে ইরান তাদের সাবেক নেতার হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নেওয়ার দৃঢ় সংকল্প পুনর্ব্যক্ত করেছে।শনিবার (১১ জুলাই) ট্রাম্প তার নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক আক্রমণাত্মক পোস্টে লেখেন, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের দিকে ১ হাজার ক্ষেপণাস্ত্র তাক করা আছে এবং আক্রমণের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্টকে- অর্থাৎ আমাকে হত্যার চেষ্টা বা পরিকল্পনা করে, তবে তাৎক্ষণিকভাবে আরও হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হবে।তিনি আরও জানান, মার্কিন সামরিক বাহিনীকে ইতোমধ্যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং তারা এক বছরের মধ্যে ইরানের সমস্ত অঞ্চলকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস ও নিশ্চিহ্ন করতে সক্ষম।ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি এক রাষ্ট্রীয় বিবৃতিতে বলেন, সাবেক সর্বোচ্চ নেতা ও তার বাবার হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নেওয়া এখন জনগণের দাবি এবং এটি ‘অবশ্যই ঘটবে’।গত বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) মাশহাদে তার বাবার দাফন সম্পন্ন হয়, যেখানে তেহরান, কোয়ম, নাজাফ ও কারবালায় প্রায় দেড় থেকে তিন কোটি মানুষের ঐতিহাসিক সমাগম ঘটে। এই বিশাল শোকমিছিল থেকে ট্রাম্পকে হত্যার স্লোগান দেওয়া হয়।এই তীব্র বাকযুদ্ধ এমন এক সময়ে এল যখন ওমান সাগরে কাতারি ও সৌদি ট্যাংকারে ইরানি হামলার পর মার্কিন বিমান হামলা এবং তার জবাবে ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে দুই দেশের মধ্যকার সাময়িক যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়েছে।ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘ইরান আমাদের আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেছে এবং আমরা তাতে রাজি হয়েছি। তবে ওয়াশিংটন তেহরানকে পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে যে, যুদ্ধবিরতির দিন শেষ!’আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করলেও পর্দার আড়ালে কূটনীতি সচল রয়েছে। কাতারি মধ্যস্থতাকারীরা তেহরানে অবস্থান করছেন এবং মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই সংকট নিরসনে তৎপর রয়েছেন।ওয়াশিংটন শর্ত দিয়েছে যে যেকোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে হলে ইরানকে অবশ্যই তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির সীমা মেনে নিতে হবে এবং পারমাণবিক উপাদান হস্তান্তর করতে হবে।ওয়াশিংটনের এই প্রচণ্ড চাপের মুখে ইরানের প্রধান আলোচক ও পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ বলেন, ‘ইরান কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আত্মসমর্পণ করবে না।’ওমানে অবস্থানরত ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচলের বিষয়ে আলোচনা করছেন। তবে ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সির দাবি, যুক্তরাষ্ট্র তার অবস্থান থেকে সরে না আসা পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা হবে না।মার্কিন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-কে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ইরানের একটি সুনির্দিষ্ট ও সক্রিয় হত্যা চক্রান্তের ব্যাপারে আগেই সতর্ক করেছিল। সূত্র: আল জাজিরা
রাজনীতি
আমাকে হত্যার চেষ্টা করলে ইরান ধ্বংস হবে: ট্রাম্প

শেয়ার করুন







