আর্জেন্টিনা-মিসর শ্বাসরুদ্ধকর শেষ ষোলোর ম্যাচের ৩-২ স্কোরকার্ড ছাপিয়ে আলোচনায় রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে। জয়ের পরও তাই আর্জেন্টাইন ভক্ত-সমর্থকেরা অস্বস্তিতে পড়েছেন। লেতেক্সিয়ে আর্জেন্টাইনদের সুবিধা দিয়েছেন বলে সামাজিক মাধ্যমে এমন চর্চা চলছে। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে অনেকেই দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়েছেন। কারও মতে লেতেক্সিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, কারও চোখে তিনি বিতর্কিত।

ঘটনার সূত্রপাত ৬০ মিনিট থেকেই। মিসরের মোস্তফা জিকো গোল করলেও তা বাতিল করা হয়েছে। সেই গোল তৈরির সময় আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেসের কাছ থেকে বল কাড়তে গিয়ে তাঁর জার্সি টেনে ধরেন মিসরের মিডফিল্ডার মারওয়ান আত্তিয়া। শুধু তাই নয়, মার্তিনেসের পায়ের ওপর পা তুলে দেন আত্তিয়া। গোলের পর জিকো ও তাঁর সতীর্থরা উদযাপনের পর ভিডিও অ্যাসিস্ট রেফারির হস্তক্ষেপে সেটাকে ফাউল বিবেচনা করে গোল বাতিল করা হয়েছে।

লিভারপুলের সাবেক ডিফেন্ডার জেমি ক্যারাঘারের মতে মিসরের এটা অন্য সময় ঠিকই গোল ধরা হতো। ভিএআরের হস্তক্ষেপ নিয়ে ক্যারাঘার, ‘এটি যদি অন্য কোনো দলের বিপক্ষে হতো, তবে এটিকে (মিসরের গোল) গোল হিসেবেই ধরা হতো। প্রিমিয়ার লিগ, লা লিগা বা সিরি ‘আ’তে হলে ভিএআর পর্যালোচনা করার পরও গোলই থাকত।’

দ্বিতীয় বিতর্ক তৈরি হয় ৯০ মিনিটের পর যোগ করা সময়ে। আটলান্টায় আর্জেন্টিনা-মিসর শেষ ষোলোর ম্যাচ তখন ২-২ সমতায়। ৯০ মিনিটের পর ৩ মিনিটে এনসো ফের্নান্দেস গোল করে উদযাপনে মাতেন। কিন্তু সেই গোলটির উৎসে মোহাম্মদ সালাহকে ফাউল করা হয়েছিল বলে দাবি করেন ইয়ান রাইট।

বিবিসি প্রতিবেদক জনসন ডেল সামাজিক মাধ্যমে আর্জেন্টিনা-মিসর ম্যাচের রেফারিং নিয়ে পোস্ট করেন ‘এই টুর্নামেন্টে যেভাবে রেফারিং করা হয়েছে মিসরের বাতিল হওয়া গোলটি সেটার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। একদিকে সামান্য স্পর্শের জন্য ফাউল দেওয়া হবে না। আর সামান্য জার্সি টেনে ধরার মতো ঘটনায় ভিএআর দেখে গোল বাতিল করবেন।’ জনসনের এই পোস্ট রি-টুইট করে অ্যালান শিয়ারার লেখেন ‘হয় দুটিই ফাউল। না হয় একটাও ফাউল না। কিন্তু তারা বলেছিল যে মাঠের রেফারির সিদ্ধান্ত পুনর্মূল্যায়ন করা হবে না।’

হারের পর মিসরের কোচ হোসাম ও ফরোয়ার্ড জিকো ক্ষোভ ঝেড়েছেন। হোসাম বলেন, ‘আমার একটি গোল বাতিল করা হয়েছে। আমি জানি না কেন। এটা ন্যায্য নয়। মনে হচ্ছে, মেসিকে টুর্নামেন্টে এগিয়ে রাখার একটা ইচ্ছা আছে; এখানে বিপণনের বিষয়ও রয়েছে। হয়তো তারা বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন। রেফারি মিসর জাতীয় দলের প্রতি অবিচার করেছেন। তবে ফুটবলের বাইরেও অন্য কিছু বিষয় ছিল, যেগুলো এই হারের কারণ হয়েছে।’

এমনকি ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনা ফরাসি রেফারি লেতেক্সিয়ের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিলেন বলে অভিযোগ করেন মিসরের কোচ। ফরোয়ার্ড জিকো বলেন, ‘রেফারি (ন্যায্য নন) একটি পুরো দেশের পরিশ্রম নষ্ট করে দিচ্ছেন। তিনি আমাদের লক্ষ্য করছেন; কারণ, আমরা যাতে আর্জেন্টিনাকে হারাতে না পারি! একটি সাজানো টুর্নামেন্ট। এই কাপটা আর্জেন্টিনার জন্যই নির্ধারিত।’

কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা খেলবে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে। ভ্যাঙ্কুভারে গত রাতে কলম্বিয়াকে টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে হারিয়েছে সুইসরা। ১২ জুলাই কানসাসে বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টায় শুরু হবে আর্জেন্টিনা-সুইজারল্যান্ড কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচ।