রাজধানীর আদাবরে মুঠোফোনে আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বিকাশের এজেন্টকে দোকানে কুপিয়ে ছিনতাইয়ের ঘটনার অন্যতম আসামি মো. জাহিদ এবার চাঁদাবাজি করতে গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন। শনিবার দুপুরে রাজধানীর ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান তিনি।
আদাবর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুল ইসলাম প্রথম আলোকে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
আদাবর থানা–পুলিশ সূত্র জানায়, বিকাশের দোকানে কুপিয়ে ছিনতাইয়ের ঘটনায় করা মামলার অন্যতম আসামি জাহিদ। শনিবার সকালের দিকে আদাবরের সুনিবিড় হাউজিং এলাকার ৪ নম্বর সড়কে শেখ খোরশেদ মিয়ার কাছ থেকে চাপাতি দেখিয়ে ১০ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করেন জাহিদ। তাতেও সন্তুষ্ট না হয়ে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে খোরশেদ মিয়ার বাসায় ঢুকে জোর করে আলমারি থেকে ৩০ হাজার টাকা বের করে নেন।
এ সময় বাসার টিভি, ফ্রিজ, আলমারিসহ আসবাবপত্র ভাঙচুর করেন জাহিদ। একপর্যায়ে খোরশেদ মিয়া বাধা দিলে তাঁকেও চাপাতি দিয়ে ধাওয়া দেন। পরে স্থানীয়রা জাহিদকে ধরে গণপিটুনি দেন বলে পুলিশ সূত্র জানায়।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, গণপিটুনি দেওয়ার পর পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অসুস্থ অবস্থায় জাহিদকে উদ্ধার করে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁকে আদালতে নেওয়া হয়। আদালতের হাজতখানায় নেওয়ার পর তিনি আরও অসুস্থ হয়ে পড়লে আদালতের পাশেই ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে পরীক্ষা–নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসক জাহিদকে মৃত ঘোষণা করেন।
ওসি জাহিদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, বিকাশের দোকানিকে কুপিয়ে জখম করার পর থেকে জাহিদকে পুলিশ খুঁজছিল। এমন পরিস্থিতিতে শনিবার তিনি আবার ছিনতাই করতে যান। পরে স্থানীয়রা তাঁকে ধরে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশকে খবর দেন। তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালের ছাড়পত্র নিয়েই আদালতে তোলা হয়। কিন্তু আদালতে যাওয়ার পর তিনি আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
এর আগে ১৬ জুন আদাবরের শেখেরটেক এলাকায় বিকাশ এজেন্ট শফিকুল ইসলামকে কুপিয়ে তিন লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন জাহিদ। জড়িতদের ধরতে অভিযান শুরু করলে ছিনতাইকারীরা পুলিশের ওপরও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালান। এতে আদাবর থানার ওসি এবং উপপরিদর্শক (এসআই) তরুন আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং আত্মরক্ষার্থে পুলিশ গুলি চালালে দুজন ছিনতাইকারী আহত হন। পরে এ ঘটনায় পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করে।





