মানুষের জীবনের বাঁকে বাঁকে জমে থাকে বিপদ-আপদের ইট-পাথর ও কাদা-বালু। তবে মুমিনের জীবনে বিপদ মানেই আল্লাহর পক্ষ থেকে পরীক্ষা। মহান আল্লাহ দেখতে চান, বান্দা এই কঠিন পরিস্থিতি কীভাবে মোকাবিলা করে। যারা ধৈর্যের শক্তিতে মুসিবতের দেয়াল টপকাতে পারে, তাদের জন্য রয়েছে মহা পুরস্কার। শান্তির আসল স্থান মানুষের অন্তর, আর ধৈর্যশীল ব্যক্তিরাই অবশেষে সেই শান্তির বারিতে সিক্ত হয়।

পৃথিবীতে সবচেয়ে সম্মানিত ও আল্লাহর প্রিয় বান্দা হলেন নবীগণ। মহান আল্লাহ তাঁদেরও কঠিন পরীক্ষা করেছেন। কাউকে সাগরভরা পানি, কাউকে আকাশছোঁয়া আগুন, আবার কাউকে অবাধ্য উম্মতের মুখোমুখি হতে হয়েছে। ইমানদারদের এখান থেকেই শিক্ষা নিতে হবে। যাবতীয় বিপদে ধৈর্যের সম্বলে বলীয়ান হলেই মুমিনকে দেওয়া হয় গুনাহ মাফের সুসংবাদ।

উম্মুল মুমিনিন আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘মুসলিম ব্যক্তির ওপর যেসব বিপদ-আপদ আপতিত হয়, তার দ্বারা আল্লাহ তার পাপ মোচন করে দেন। এমনকি যে কাঁটা তার শরীরে বিদ্ধ হয়, তার দ্বারাও গুনাহ মাফ করা হয়।’ (সহিহ বুখারি: ৫৬৪০)

অপর এক বর্ণনায় মুসআব ইবনে সাদ (রহ.) তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণনা করেন, তাঁর পিতা বলেন, ‘আমি প্রশ্ন করলাম, হে আল্লাহর রাসুল! কার বিপদের পরীক্ষা সবচেয়ে কঠিন হয়?’ তিনি বললেন, ‘নবীদের পরীক্ষা, তারপর যারা তাদের পর উৎকৃষ্ট, এরপর যারা উৎকৃষ্ট। মানুষকে তার দ্বীনের ওপর দৃঢ়তার অনুপাত অনুযায়ী পরীক্ষা করা হয়। যে লোক বেশি ধার্মিক, তার পরীক্ষাও কঠিন হয়ে থাকে। আর যদি কেউ দ্বীনের ক্ষেত্রে শিথিল হয়, তবে তাকে সে মোতাবেক পরীক্ষা করা হয়। অতএব, নেককারের ওপর বিপদ-আপদ লেগেই থাকে। অবশেষে তা তাকে এমন পবিত্র অবস্থায় ছেড়ে দেয় যে সে জমিনে চলাফেরা করে অথচ তার কোনো গুনাহই থাকে না।’ (জামে তিরমিজি: ২৩৯৮)

লেখক: শিক্ষক, জামিয়া রিয়াজুল উলূম, ত্রিশাল পৌরসভা, ময়মনসিংহ