ব্রাজিলীয়দের সঙ্গে বসে ব্রাজিলের খেলা দেখার মজা আছে। অনেক বিখ্যাত খেলোয়াড়ের সঙ্গে সামনাসামনি দেখা হলো। টিভিতে যেমন দেখি, সামনাসামনি ওদের চেহারায় অনেক তফাত।
যেমন ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে টিভিতে অনেক কালো দেখায়। সামনাসামনি বেশ ফরসা। কারণ জিজ্ঞেস করতেই বলল ও প্রতিদিন ফেয়ার অ্যান্ড লাভলি মাখে। এতে ত্বকের মেলানিন রোধ হয়, মাত্র ছয় থেকে আট সপ্তাহে ত্বক হয় ফরসা, উজ্জ্বল।
তারপর নেইমারের সঙ্গেও দেখা হলো। পুরাই বাচ্চা ছেলে, বুঝলাম, ইনজুরির কারণে বেচারা শুকিয়ে একদম ছোট্ট হয়ে গেছে। বেশি বেশি করে ভাত খেতে বললাম। সকালে ভেজা ছোলাও খেতে পরামর্শ দিলাম। এতে প্রাণশক্তি ও সহনশীলতা বাড়বে।
কিছুদূরে কাকার সাক্ষাৎ পেলাম। খেলা ছাড়ার পর বেশ মুটিয়ে গেছেন। কিন্তু শুনেছিলাম, তাঁর বিবির সঙ্গে তালাক হয়ে গেছে। তাহলে বাড়িতে ভাত রাঁধে কে? না খেতে পেয়ে শুকিয়ে যাওয়ার কথা, উল্টো মুটিয়ে গেছে।

এককোণে রোনালদো বসে বসে খেলা দেখছিলেন। বিগ ফ্যান! বিশ্বাসই করতে পারছি না—এই লোকই ব্রাজিলকে ২০০২ বিশ্বকাপ এনে দিয়েছিলেন। আগে টাকমাথা ছিল, এখন দেখি ঘন চুল। খেলা ছাড়ার পর হয়তো বেচারা চুল শেভ করবে—সেই ব্লেড কেনারও পয়সা নেই! আহারে! যে জাতি নিজের হিরোদের ঠিকঠাক সম্মান করে না, সেই জাতি কীভাবে উন্নতি করবে!
দূর পরবাসে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: [email protected]

সবশেষে দেখা পেলাম রোমারিওর। যেন বুড়িয়ে গেছেন! দেখলে কে বলবে—’৯৪ বিশ্বকাপ এই লোকেরই অবদান। রোনালদোর পাশে বসে হয়তো অতীতের স্মৃতিরোমন্থন করছিলেন।
ভালো কথা, টিভিতে শাকিলা জাফরের গান আর নাচানাচিও দেখলাম। ভদ্রমহিলাকে অনেক দিন পর টিভিতে দেখলাম। বয়স হয়েছে, চুল পেকে সোনালি হয়ে গেছে। কিন্তু সতর ঢাকার বদলে দেখলাম বেশ খোলামেলা হয়ে নাচানাচি করতে লাগলেন। বয়স হয়েছে, এক পা কবরে চলে গেছে, এই বয়সে এসব কী! চোখ সরায়ে নিলাম।

আর মাইকের সমস্যার কারণে তাঁর গানের একটা শব্দও বুঝলাম না। চিন্তা করতে পারেন, বাংলা আমার মাতৃভাষা, ভদ্রমহিলা কী গাইলেন, সেটা বুঝতে পারলাম না। বিদেশিরা বুঝবে কী?








