গত বছর দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফেরার প্রথম দিনই জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের লক্ষ্যে একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তবে আজ মঙ্গলবার মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট তাঁর জারি করা সেই নির্বাহী আদেশ অবৈধ বলে ঘোষণা করেছেন। ৬-৩ ভোটের এই রায়ে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা নিম্ন আদালতের একটি সিদ্ধান্তই বহাল রেখেছেন।

গত এপ্রিলে নিম্ন আদালতের ওই সিদ্ধান্তে ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশটি স্থগিত করা হয়েছিল।

বিবিসির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ট্রাম্পের ওই আদেশে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া কোনো শিশুর মা-বাবার কেউ যদি মার্কিন নাগরিক বা স্থায়ী বৈধ বাসিন্দা না হন, তবে সেই শিশুর নাগরিকত্বের স্বীকৃতি যেন না দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে ট্রাম্পের এই আদেশের বিরুদ্ধে ২২টি রাজ্যের ডেমোক্র্যাট অ্যাটর্নি জেনারেল, অভিবাসী অধিকারকর্মী ও অভিবাসী গর্ভবতী নারীরা মামলা করেছিলেন।

বিষয়টির প্রতি ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আগ্রহ ও জেদ এতটাই তীব্র ছিল যে, গত এপ্রিলে সুপ্রিম কোর্টে যখন মামলার প্রথম মৌখিক যুক্তি-তর্ক বা শুনানি চলছিল, তখন তিনি নিজেই সশরীরে আদালতে হাজির হয়েছিলেন। আমেরিকার ইতিহাসে এটি নজিরবিহীন ঘটনা।

সেদিন সুপ্রিম কোর্টের দর্শক গ্যালারিতে বসে ট্রাম্প তাঁর প্রশাসনের সলিসিটার জেনারেল ডি. জন সয়ারের আইনি যুক্তি শোনেন। সয়ারের বক্তব্য শেষ হওয়ার পরপরই ট্রাম্প আদালত কক্ষ ত্যাগ করেন।

ওই সময়ই অনেকে অভিযোগ তুলেছিলেন, মামলার রায়কে নিজের পক্ষে প্রভাবিত করতে ট্রাম্প দেশের প্রেসিডেন্ট হয়েও আদালতে হাজির হয়েছেন। এর মাধ্যমে তিনি বিচারকদের ওপর এক ধরনের অনৈতিক চাপ সৃষ্টিরও চেষ্টা করেছিলেন।

সেদিনের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের প্রশ্নের মুখে পড়েছিলেন ট্রাম্প প্রশাসনের আইনজীবী সয়ার। বিচারপতিদের সেই কঠোর মনোভাব দেখে তখনই আভাস পাওয়া গিয়েছিল, আদালতের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারক ট্রাম্পের খোঁড়া যুক্তিতে মোটেও সন্তুষ্ট বা আশ্বস্ত হতে পারেননি।

অবশেষে আজ মঙ্গলবার আদালতের চূড়ান্ত রায়ে ট্রাম্পের সেই আদেশ অবৈধ ঘোষিত হয়েছে।

সেদিন আদালত থেকে বেরিয়ে নিজের ক্ষোভ আর চেপে রাখতে পারেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। জনসমক্ষেই তিনি সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের বিরুদ্ধে কথা বলতে শুরু করেন। তিনি বলেন, যেসব বিচারককে তিনি নিজে সুপ্রিম কোর্টে নিয়োগ দিয়েছেন, তাঁরাই আজ তাঁর আদেশের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন। এরা আসলে ‘স্টুপিড পিপল’।

এর আগেও বিভিন্ন সময়ে নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে রায় দেওয়া বিচারকদের ট্রাম্প ব্যক্তিগত আক্রমণ করেছেন। এটি মার্কিন বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও প্রশাসনের মধ্যকার দ্বন্দ্বকেই তুলে ধরে।