ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রদল আয়োজিত একটি মিছিলে অংশ নেওয়া বহিরাগতদের আনা-নেওয়ার কাজে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বাস ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসজুড়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

ঝিনাইদহের শৈলকূপা ও গাড়াগঞ্জ এলাকায় তাদের যাতায়াতের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘আবাহন’, ‘বলাকা’ ও ‘যাতায়াত’সহ মোট চারটি বাস ব্যবহার করা হয়। তবে পরিবহন দপ্তরের দাবি, শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাসুদ রুমী মিথুনের অনুরোধে এসব বাসের মধ্যে একটি বাস শিডিউলের বাইরে ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। বাকি বাসগুলো কার নির্দেশে দেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে পরিবহন দপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্যে অসংগতি দেখা গেছে।

জানা গেছে, শনিবার (৮ জুলাই) নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন উপলক্ষে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রদল বহিরাগতদের নিয়ে একটি শুভেচ্ছা মিছিল করে। মিছিলে সংগঠনটির নেতাকর্মীসহ প্রায় পাঁচ শতাধিক লোকজন অংশ নেন। এর মধ্যে অন্তত আড়াই থেকে তিন শতাধিক ছিলেন কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহের বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী এবং অন্যান্য বহিরাগত।

অভিযোগ রয়েছে, বহিরাগতদের কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ থেকে ক্যাম্পাসে আনা এবং পরে পৌঁছে দেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের একাত্তর, বলাকা, যাতায়াত ও আবাহন নামক চারটি বাস ব্যবহার করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান ও উপাত্ত বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সাব্বির আহমেদ বলেন, কিছুদিন আগে আমরা একাডেমিক ফিল্ড ট্যুরের জন্য পরিবহন প্রশাসনের কাছে একটি বাসের আবেদন করেছিলাম। কিন্তু পরিবহন প্রশাসক ও প্রো-ভিসি স্যার ‘অন-ডে’ কার্যক্রমের অজুহাত দেখিয়ে আমাদের বাস দেননি। অথচ অন-ডেতেই বহিরাগতদের আনা-নেওয়ার জন্য চারটি বাস দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা আমাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছি।

এদিকে ইবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাসুদ রুমী মিথুন বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, শিডিউলের বাইরে বাস দেওয়ার জন্য আমরা কাউকে অনুরোধ করিনি। আমাদের নেতাকর্মীরা যে যেভাবে পেরেছেন সেভাবে যাতায়াত করেছেন। এক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস ব্যবহার করা হয়নি।

বলাকা বাসের চালক লাল্টু বলেন, সেদিন যাত্রীসংখ্যা বেশি ছিল। পরিবহন অফিসের খায়ের ভাইয়ের নির্দেশে বাসটি অতিরিক্ত শিডিউল হিসেবে চালানো হয়। বাসটি শৈলকূপার কবিরপুর পর্যন্ত গিয়ে থামে। বাসে বহিরাগত লোকজনও ছিল। সবাইকে তো আর আমি চিনি না।

পরিবহন দপ্তরের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও বাস শিডিউল পরিচালক আবুল খায়ের বলেন, সেদিন বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৩টায় নিয়মিত শিডিউলের বাইরে অতিরিক্ত চারটি বাস দেওয়া হয়েছিল। বাসগুলো হাফিজুর রহমান বাচ্চুর নির্দেশে বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে এসব বাসে কারা এসেছেন বা কারা গেছেন, সে বিষয়ে আমার জানা নেই।

অন্যদিকে পরিবহন দপ্তরের ডেপুটি রেজিস্ট্রার হাফিজুর রহমান বাচ্চু অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার জানামতে সেদিন শিডিউলের বাইরে কোনো বাস দেওয়া হয়নি। এ ধরনের কোনো নির্দেশনাও আমি দিইনি।

পরিবহন প্রশাসক অধ্যাপক ড. আব্দুর রউফ বলেন, ছাত্রদলের আহ্বায়ক মিথুনের অনুরোধে দুপুর ১২টার দিকে শিডিউলের বাইরে একটি বাস চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলাম। এর বাইরে কেউ যদি অতিরিক্ত বাস দিয়ে থাকে, সে বিষয়ে আমার কোনো জানা নেই।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এ ধরনের কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।

ইরফান উল্লাহ/এফএ/এএসএম