দেশে সোমবার সকাল ৮টার আগের ২৪ ঘণ্টায় এডিস মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে ডেঙ্গু নিয়ে ৩২৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বলে তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে একই সময়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এর আগের দিন ডেঙ্গুজ্বর নিয়ে ৩৫০ রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হন এবং একজনের মৃত্যু হয়। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছর এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ২৭ জনের মৃত্যু হলো; যার মধ্যে চলতি জুলাইয়ের ১২ দিনে প্রাণ গেছে ৯ জনের।
অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ১৪২ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১৭ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৪৮ জন, খুলনা বিভাগে ৪৫ জন, রাজশাহী বিভাগে ৯ জন, রংপুর বিভাগে চারজন, বরিশাল বিভাগে ৬১ জন ও সিলেট বিভাগে একজন রয়েছেন। এই সময়ে সুস্থ হয়ে ২৩০ জন হাসপাতাল ছেড়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবমতে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত দেশে ৮ হাজার ৬৫০ জন ডেঙ্গু নিয়ে হসপাতালে ভর্তি হন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৭ হাজার ৮০০ জন।
অন্যদিকে গত চব্বিশ ঘণ্টায় যে দুজন ডেঙ্গুতে প্রাণ হারিয়েছেন তাদের মধ্যে একজন ঢাকা ও অন্যজন চট্টগ্রাম বিভাগের। চলতি বছর এ পর্যন্ত ঢাকা বিভাগেই সর্বোচ্চ ১২ ডেঙ্গু রোগী মারা গেছেন। এরপর ময়মনসিংহে ৫ জন, চট্টগ্রামে ৪, খুলনায় ৩, বরিশালে ২ ও রাজশাহী বিভাগে একজন মারা গেছেন।
হামের উপসর্গে আরও ১ শিশুর মৃত্যু : অধিদপ্তর জানায়, হামের উপসর্গ নিয়ে দেশে রোববার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে এ সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি। একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ দেখা গেছে ১ হাজার ৯ শিশুর শরীরে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে সুনামগঞ্জে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৬৬৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আর নিশ্চিত হামে প্রাণ হারিয়েছে আরও ৯৪ শিশু। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এ সময়ে মোট ৭৫৯ শিশু মারা গেছে। এছাড়া ২৪ ঘণ্টায় ১১৩ শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, আর হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ৮৯৬। এ সময়ে ৮৫৬ শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৮৭৮ শিশু।
