পর্যাপ্ত আসনের অভাব, গরম, অপর্যাপ্ত আলো-বাতাস ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা না থাকায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের জব কর্নারে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন চাকরিপ্রত্যাশী শিক্ষার্থীরা। সিটের জন্য দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও বসার সুযোগ না পেয়ে গাদাগাদি করেই পড়াশোনা করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।
অন্যদিকে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সাধারণ পাঠকক্ষের অনেক আসন ফাঁকা থাকলেও সেখানে চাকরির প্রস্তুতির প্রয়োজনীয় বই নিয়ে পড়ার সুযোগ না থাকায় অধিকাংশ শিক্ষার্থী জব কর্নারেই ভিড় করছেন। এ অবস্থায় জব কর্নারের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন জব কর্নার স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
জানা গেছে, বাদশা ফাহদ বিন আব্দুল আজিজ কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে প্রায় ৬০০টি আসনের ব্যবস্থা রয়েছে। গত বছর চাকরিপ্রত্যাশী শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথক জব কর্নার চালু করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বর্তমানে বিসিএস, ব্যাংক, সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন চাকরির প্রস্তুতি নিতে প্রতিদিন অসংখ্য শিক্ষার্থী সেখানে পড়াশোনা করেন। তবে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়লেও সেই অনুপাতে বাড়েনি আসন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা।
সরেজমিনে দেখা যায়, জব কর্নারের অধিকাংশ আসন সকাল থেকেই পূর্ণ থাকে। অনেক শিক্ষার্থী সিটের অপেক্ষায় বাইরে দাঁড়িয়ে থাকেন, আবার কেউ কেউ বাধ্য হয়ে গাদাগাদি করে বসে পড়াশোনা করেন। কক্ষে পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের ব্যবস্থা নেই। শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় গরমে পড়াশোনা করতে হিমশিম খেতে হয় শিক্ষার্থীদের। একই সঙ্গে সিলিং ফ্যানের সংখ্যাও প্রয়োজনের তুলনায় কম বলে অভিযোগ করেন অনেকে।
এদিকে জব কর্নারের বিপরীতে থাকা ডিজিটাল সেন্টারটি অধিকাংশ সময় বন্ধ থাকায় সেটিকে শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যবহার উপযোগী করার দাবিও তুলেছেন অনেকে। তাদের মতে, অব্যবহৃত জায়গা কাজে লাগানো হলে আসন সংকট অনেকটাই কমে আসবে।
২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শিহান আলম বলেন, জব কর্নার চাকরিপ্রত্যাশীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জায়গা। কিন্তু শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় এখন বসার জায়গা পাওয়া কঠিন হয়ে গেছে। গরমের সময় পর্যাপ্ত বাতাসের ব্যবস্থা না থাকায় পড়াশোনা করাও কষ্টকর হয়ে পড়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি আবাসিক হলে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পাঠকক্ষ করা সম্ভব হলে কেন্দ্রীয় জব কর্নারেও একই ধরনের ব্যবস্থা করা সম্ভব। প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে বলে আশা করি।
একই বিভাগের শিক্ষার্থী ফাতিমা খাতুন বলেন, অনেক সময় দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও বসার জায়গা পাওয়া যায় না। কেউ খাবার খেতে বাইরে গেলে ফিরে এসে নিজের সিটও আর পান না। প্রচণ্ড গরমে পর্যাপ্ত ফ্যান ও এসির অভাবে পড়াশোনা করতে গিয়ে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারিক খন্দকার আব্দুল মজিদ বলেন, ৫ আগস্টের পর শিক্ষার্থীদের চাহিদার ভিত্তিতে জব কর্নার চালু করা হয়েছে। তবে জায়গার সীমাবদ্ধতার কারণে বর্তমানে সেখানে আসন সংখ্যা বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। বিদ্যমান ফ্যানগুলো সচল রয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ সুবিধা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পাশেই নতুন একটি জব কর্নার স্থাপনের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
ইরফান উল্লাহ/এনএইচআর/এএসএম








