কালকিনিতে রান্নাঘর থেকে লাকড়ি আনতে গিয়ে বিষধর সাপের কামড়ে খাদিজা বেগম নামের এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে উপজেলার আলিনগর ইউনিয়নের উত্তর কোলচরি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। খাদিজা বেগম ওই গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক হাওলাদারের মেয়ে ও জাকির বেপারীর স্ত্রী। জানা গেছে, উত্তর কোলচরি গ্রামে নিজ বাড়ির রান্নাঘরে রান্নার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন খাদিজা। এ সময় মাচা থেকে লাকড়ি বের করতে গেলে ভেতরে লুকিয়ে থাকা একটি বিষধর সাপ তার হাতে কামড় দেয়। তাকে প্রথমে বাড়িতে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা চালায়। পরে তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে দ্রুত মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসক শিহাব উদ্দিন বলেন, ওই গৃহবধূকে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। এদিকে মাদারগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় অবহেলায় সাপে কাটা এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্বজনদের দাবি, সময়মতো সাপের বিষের প্রতিষেধক (অ্যান্টিভেনম) না দেওয়ায় ওই রোগীর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় মঙ্গলবার চিকিৎসার অবহেলার অভিযোগে উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তা আসাদুজ্জামানকে মারধর করেছে রোগীর আত্মীয়স্বজনরা। জানা গেছে, হাসপাতালের পার্শ্ববর্তী তারতাপাড়া গ্রামের মাছ ব্যবসায়ী চান মিয়ার স্ত্রী রমিছা বেগমকে সোমবার রাতে সাপে কামড় দেয়, সঙ্গে সঙ্গে তাকে মাদারগঞ্জ হাসপাতালে নিয়ে এলে চিকিৎসকরা রমিছা বেগমের রক্ত পরীক্ষা করে জানায়, তাকে বিষধর সাপে দংশন করেনি, চিকা কিংবা অন্য কোনো কীটপতঙ্গ দংশন করেছে। এর কিছুক্ষণ পরে রোগীর অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করে। রোগীকে জামালপুর নেওয়ার পথে পৌরসভার বালিজুড়ী বাজার এলাকায় তার মৃত্যু হয়। উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান জানান, পরীক্ষায় ওই রোগীর মধ্যে এসব লক্ষণ পাওয়া যায়নি। তাই তখন অ্যান্টিভেনম দেওয়া হয়নি। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করা হয়। এ বিষয়ে মেডিকেল কর্মকর্তা দায়িত্বে থাকা ডাক্তার আবু রায়হান জানান, সাপে কাটা রোগীর মৃত্যুর বিষয়ে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে।