নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পাঁচ লাখ টাকা আত্মসাৎ করতে বাসায় নিয়ে মোতালেব নামের এক বিকাশ ব্যবসায়ীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার ফতুল্লার মাসদাইর এলাকায় হত্যার পর লাশ তোশকে প্যাঁচিয়ে সড়কের পাশে ফেলে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় গ্যারেজ মহাজন ও এক ইজিবাইক চালককে আটক করেছে পুলিশ। নিহত মোতালেব (৬৫) লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ থানার শিবপুর গ্রামের মৃত সোলেমান মিয়ার ছেলে। তিনি সপরিবারে মাসদাইর কবরস্থান এলাকায় থাকতেন।

নিহতের পরিবার জানায়, মোতালেব মাসদাইর বাজারে জাকির হোসেনের সঙ্গে বই ও বিকাশের ব্যবসা করেন। ব্যবসা করতে গিয়ে প্রায় ৫ লাখ টাকা জাকিরের কাছে মোতালেব পেতেন। সেই টাকা আত্মসাৎ করতেই বাসায় ডেকে নিয়ে মোতালেবকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে নির্মম ভাবে হত্যা করা হয়েছে।

এলাকাবাসী জানান, মধ্যরাতে কেন গ্যারেজ থেকে ইজিবাইক বের করা হয়েছে-এ নিয়ে ভোরে গ্যারেজ মহাজন সোহেল মিয়ার সঙ্গে চালক ফারুকের তর্ক হয়। বিষয়টি আশপাশের লোকজন দেখেন। পরে যখন তোশকে মোড়ানো অবস্থায় পুলিশ লাশ উদ্ধার করে, তখন এলাকাবাসী বুঝতে পারেন লাশটি সোহেল মিয়ার গ্যারেজের চালককে দিয়ে ফেলা হয়েছে। এতে এলাকাবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে গ্যারেজ মহাজন সোহেল ও চালক ফারুককে আটক করে পুলিশে দেন।

তখন ফারুক পুলিশকে বলেন, মাসদাইর বাজারের ব্যবসায়ী জাকির হোসেন গ্যারেজে এসে তাকে ঘুম থেকে ডেকে গাড়ি বের করতে বলেন। তিনি বলেন, বাসায় একটি তোশকে পোকায় আক্রমণ করেছে। এজন্য সেটি রাস্তায় ফেলে দিতে হবে। তখন ফারুক না করায় তাকে ৫ হাজার টাকা দেওয়ার লোভ দেখান। পরে সে রাজি হয়ে জাকিরের বাসার সামনে থেকে তোশক তুলে কিছু দূর নিয়ে সড়কের পাশে ফেলে দিয়ে টাকা নিয়ে চলে যায়।

ফতুল্লা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম জানান, সিসিটিভি ক্যামেরায় দেখা গেছে জাকির হোসেন হাসি দিয়ে মোতালেব মিয়ার কাঁধে হাত রেখে হাঁটতে হাঁটতে তার বাসায় নিয়ে যাচ্ছে। এরপর রাতেই জাকির হোসেনের বাসা থেকে তোশক বের করে ইজিবাইকে তুলে নিয়ে যেতে দেখা যায়। ইজিবাইক চালককেই সড়কের পাশে আরও দুজনকে সঙ্গে নিয়ে তোশক ফেলে দিতে দেখা যায়। পরে জাকিরের বাড়ির পেছন থেকে মোতালেবের ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ও একটি ব্যাগ উদ্ধার করা হয়েছে। জাকির সপরিবারে পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেফতার করতে পারলে হত্যার কারণ জানা যাবে।