পাঁচ বছর আগে রাজধানীর মহাখালীতে স্বামীকে ছয় টুকরা করে হত্যা করেন প্রথম স্ত্রী ফাতেমা বেগম ওরফে শিল্পী। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ নাজমুন নাহার নিপু। রায়ে লাশ গুমের দায়ে ৭ বছরের কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম সাজা দেওয়া হয়। আদালতে আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করা হয়। এ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর খন্দকার শফি নেওয়াজ নাসির এ তথ্য জানিয়েছেন।

মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, ২০২১ সালের ৩০ মে রাতে ঢাকা-ময়মনসিংহ রোডের আমতলী এলাকায় একটি নীল রঙের ড্রামের মধ্যে এক ব্যক্তির মাথা, হাত ও পা-বিহীন লাশ উদ্ধার করে বনানী থানা পুলিশ। ওই রাতে মহাখালী বাস টার্মিনালের কাছে একটা ব্যাগের মধ্যে দুটি পা ও দুই হাতের কিছু অংশ উদ্ধার করে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা পুলিশ। দুই দিনে পৃথক স্থান থেকে উদ্ধার করা হয় লাশের মোট ৬ টুকরা।

পরে রহস্য উদ্ঘাটনে মাঠে নামে গোয়েন্দা পুলিশ। এরপর ১২ ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেফতার করা হয় ফাতেমাকে। পরে ফাতেমা পুলিশকে জানান, পারিবারিক কলহ ও একাধিক বিয়েকে কেন্দ্র করে ময়না মিয়া ওরফে শাকিলের সঙ্গে তার মনোমালিন্য হয়। একপর্যায়ে ফাতেমা পরিকল্পনা করে তার অটোরিকশাচালক স্বামীকে ঘুমের ট্যাবলেট খাইয়ে অচেতন করেন এবং ৬ টুকরা করেন লাশ। পরে একটি লাল রঙের কাপড়ের ব্যাগে মাথা, শরীরের মূল অংশকে একটি নীল রঙের পানির ড্রামে এবং দুই পা ও দুই হাতকে একটি বড় কাপড়ের ব্যাগে নিয়ে রাজধানীর চারটি স্থানে ফেলে দেন।

এ ঘটনায় ওই বছরের ১ জুন তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় মামলা করেন ময়না মিয়ার দ্বিতীয় স্ত্রী নাসরিন। গ্রেফতারের পর হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন ফাতেমা। মামলাটি তদন্ত করে ২০২২ সালের ২৪ অক্টোবর ফাতেমাকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র জমা দেন ক্যান্টনমেন্ট জোনাল টিমের ইন্সপেক্টর কাজী শরীফুল ইসলাম।