ফিফা বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-এর বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচে টরন্টোয় মুখোমুখি হয়েছে পর্তুগাল ও ক্রোয়েশিয়া। বলের দখল, আক্রমণ আর সুযোগ তৈরির দিক থেকে রবার্তো মার্তিনেজের পর্তুগাল স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে থাকলেও প্রথমার্ধ শেষে ম্যাচটি গোলশূন্য সমতায় শেষ হয়েছে। লুকা মদরিচের ক্রোয়েশিয়া মূলত তাদের দৃঢ় রক্ষণভাগ এবং গোলরক্ষকের চমৎকার নৈপুণ্যের ওপর ভর করে বিরতি পর্যন্ত নিজেদের জাল অক্ষত রাখতে সক্ষম হয়। ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলই বেশ আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলার চেষ্টা করে। ম্যাচের তৃতীয় মিনিটে প্রথম আক্রমণটি চালায় ক্রোয়েশিয়া, যেখানে ইভান পেরিসিচের পাস থেকে মার্টিন বাতুরিনা বল বাড়িয়ে দেন আন্তে বুদিমিরকে। তবে তার প্রথম ছোঁয়ায় নেওয়া শটটি দারুণভাবে রুখে দেন পর্তুগিজ গোলরক্ষক দিয়োগো কস্তা। ঠিক তার পরের মিনিটেই পাল্টা জবাব দেয় পর্তুগাল। নুনো মেন্দেসের পাস থেকে দ্রুত গতিতে বল নিয়ে এগিয়ে যান রাফায়েল লিয়াও এবং তিনি বল বাড়িয়ে দেন ব্রুনো ফার্নান্দেসকে। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এই তারকার জোরালো শট অত্যন্ত দক্ষতার সাথে প্রতিহত করেন ক্রোয়াট গোলরক্ষক ডমিনিক লিভাকোভিচ এবং ফিরতি শটটিও ডিফেন্ডাররা ব্লক করে দেন। ম্যাচের সপ্তম মিনিটে কর্নার থেকে হোয়াও ক্যানসেলোর ভলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ার পর নবম মিনিটে পেদ্রো নেতোর দারুণ ক্রস ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও গোলরক্ষক দুজনকেই ফাঁকি দিয়ে মাঠের বাইরে চলে যায়। এরপর দশম মিনিটে নিকোলা ভ্লাশিচের ক্রস থেকে বুদিমিরের হেড ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে গেলে সুযোগ হাতছাড়া হয় ক্রোয়েশিয়ার। ১২ মিনিটে কোভাচিচের ফাউলের কারণে বিপজ্জনক জায়গায় ফ্রি-কিক পায় পর্তুগাল, কিন্তু ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর নেওয়া শক্তিশালী শটটি ক্রোয়েশিয়ার মানবপ্রাচীরে বাধা পেয়ে ফিরে আসে। ১৭ মিনিটে আকাশের বলের লড়াইয়ে বুদিমিরকে কনুই দিয়ে আঘাত করার কারণে ম্যাচের প্রথম হলুদ কার্ড দেখেন পর্তুগিজ ডিফেন্ডার রুবেন দিয়াস। ১৭ মিনিটের পর থেকে পর্তুগাল ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় এবং একপর্যায়ে প্রায় ৬৯ শতাংশ বলের দখল ধরে রাখে। ২৩ মিনিটে নুনো মেন্দেসের ক্রস থেকে নেতো যখন নিশ্চিত গোলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন মারিন পংরাচিচ একটি সাহসী ডাইভিং হেডের মাধ্যমে কর্নারের বিনিময়ে ক্রোয়েশিয়াকে রক্ষা করেন। ২৪ মিনিটে কর্নার থেকে জোয়াও নেভেসের গ্ল্যান্সিং হেড পোস্ট ঘেঁষে বাইরে চলে যাওয়ার পরপরই তীব্র গরমের কারণে রেফারি ম্যাচে ওয়াটার ব্রেক ঘোষণা করেন। বিরতির পর দুই দল আবারও আক্রমণ শুরু করলে ২৮ মিনিটে সুসিচের পাস থেকে বাতুরিনার শট ব্লক করেন রেনাতো ভেইগা এবং ৩০ মিনিটে ক্যানসেলোর নিচু ক্রসে বলের নাগাল পেতে ব্যর্থ হন রোনালদো ও ব্রুনো ফার্নান্দেস। ম্যাচের ৩৩ মিনিটে ব্রুনো ফার্নান্দেসের একটি নিচু শট প্রথমে লিভাকোভিচ ঠেকানোর পর ফিরতি বলেও গোল করতে পারেননি তিনি, কারণ পেরিসিচ সেটি গোললাইন থেকে ক্লিয়ার করে দেন। প্রথমার্ধের শেষ দিকে পর্তুগালের আক্রমণের চাপ আরও তীব্র হয়। ৪০ মিনিটে কর্নার থেকে ভেইগার হেড লক্ষ্যভ্রষ্ট হয় এবং ৪২ মিনিটে সুসিচকে চারদিক থেকে ঘিরে ধরে শট নেওয়ার সুযোগ দেয়নি পর্তুগালের রক্ষণভাগ। প্রথমার্ধের ঠিক শেষ মুহূর্তে যোগ করা সময়ে পেদ্রো নেতোর ক্রস ক্লিয়ার করার চেষ্টায় বল পেয়ে যান রাফায়েল লিয়াও, কিন্তু বক্সের ভেতর থেকে নেওয়া তার ভলিটি অনেক ওপর দিয়ে চলে যায়। ফলে ৭০ শতাংশ বলের দখল এবং ৯৪ শতাংশ পাস সফলতা থাকার পরেও কোনো দলই প্রথমার্ধে গোলের মুখ দেখতে পায়নি।
অপরাধ
আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ সত্ত্বেও প্রথমার্ধেই গোলের দেখা পায়নি পর্তুগাল-ক্রোয়েশিয়া

শেয়ার করুন