চারদিকে কংক্রিটের স্তূপ, ধুলো আর স্বজনহারা মানুষের গগনবিদারী চিৎকার। উদ্ধারকর্মীরা যখন ধ্বংসস্তূপ সরাচ্ছিলেন, তখন চোখ আটকে গেল এক মায়ের নিথর দেহের দিকে। মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েও যিনি নিজের শরীরকে ঢাল বানিয়ে বুকে আগলে রেখেছিলেন ফুটফুটে কন্যাসন্তানটিকে। মায়ের জীবনপ্রদীপ নিভে গেছে ঠিকই, কিন্তু তার বুকে অলৌকিকভাবে বেঁচে গেছে সেই শিশু। লাতিন দেশ ভেনিজুয়েলায় আঘাত হানা জোড়া ভূমিকম্পের সবচেয়ে হৃদয়বিদারক দৃশ্য হয়তো এটি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও দেশটির ফুটবলার হেক্টর বেইয়োর বরাতে শুক্রবার ঘটনাটি বিশ্বগণমাধ্যমে উঠে আসে। বিবিসি।

ভেনিজুয়েলার ফুটবলার হেক্টর বেইয়ো তার ইনস্টাগ্রাম পোস্টে লেখেন, দুই দফা শক্তিশালী ভূমিকম্পের সময় তার স্ত্রী আন্দ্রেয়া নিজের জীবন বাজি রেখে তাদের কোলের শিশুকে বাঁচিয়ে গেছেন। স্ত্রীর এমন আত্মত্যাগে স্তব্ধ, শোকবিহ্বল হেক্টর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন-‘আমি ওকে (মেয়েকে) গল্পটা শোনাব যে, তুমি কীভাবে ওকে বাঁচিয়েছিলে, আমার ভালোবাসা, কীভাবে আমাদের মেয়ের জন্য তুমি নিজের জীবন উৎসর্গ করেছ। শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত তুমি কতটা সাহসী নারী ছিলে এবং ওকে কখনো ছেড়ে যাওনি, সেই গল্প আমি ওকে বলব।’ পরপর কয়েকটি পোস্টে হেক্টর বেইয়ো জানান, তিনি কারাকাসে ছুটে গেছেন, যেখানে তার মেয়ে এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ওই পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আমার মেয়ে এবং তার খালা ভালো আছে। আজ তাদের হাসপাতাল থেকে ছাড়া হবে না, তারা হাসপাতালেই থাকছে। এ চরম কষ্টের সময়ে আমার পাশে থাকার জন্য আপনাদের সবাইকে অনেক ধন্যবাদ।’ অন্য একটি স্টোরিতে হেক্টর নিজের অসহায়ত্ব উগরে দিয়ে লিখেছেন, ‘আমি তোমার মেয়েকে কীভাবে বোঝাব যে-তুমি তাকে বাঁচাতে গিয়ে নিজের জীবন হারিয়েছ, আর আমি সেখানে কিছুই করার জন্য উপস্থিত ছিলাম না?