দুনিয়ার সবচেয়ে বড় উন্মাদনার স্পোর্টস ইভেন্টে বাকিসব ভুলে যাওয়াই স্বাভাবিক। নিজেদের পছন্দের খেলা ফুটবল না হলেও তখন মজে থাকতে হয় নব্বই মিনিটের ওই পাগলাটে খেলাটায়। পছন্দের খেলা ক্রিকেট, বাস্কেটবল, হকি, বেজবল যাই হোক না কেন! কোনোটারই আর খবর রাখা হয়ে ওঠে না একজন ক্রীড়ামোদী মানুষের।

যেমন উপমহাদেশে ক্রিকেটটা একেবারে প্রাত্যহিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই অঞ্চলের চারটি দেশ খেলে ক্রিকেটের শীর্ষ পর্যায়ে। আর ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় বাজারটাও এই অঞ্চলেই। অথচ, এই অঞ্চলের তিন দেশ যে বিশ্বকাপ ফুটবলের মৌসুমে ক্রিকেট মাঠে কঠিন সময় কাটাচ্ছে তাতে মোটেও ভ্রুক্ষেপ নেই দেশটির সমর্থকদের।

উপমহাদেশের ভারত ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় পরাশক্তি। টি-টোয়েন্টিতে আয়ারলত্যান্ডের কাছে দলটি হয়েছে ধবলধোলাই। এই ঘটনা যতটা বিস্ময়ের জন্ম দেওয়ার কথা, তার ছিটেফোটাও চোখে পড়েনি সামাজিক যোগাযোগামাধ্যমে। বাংলাদেশের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে ঘরের মাঠে দাপট দেখাচ্ছে জিম্বাবুয়ে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে ইনিংস ও ২১৭ রানে প্রথম টেস্টে হেরেছে শ্রীলঙ্কা। ক্রিকেটকে বিদায় বলে দিয়েছেন ইংল্যান্ডের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার বেন স্টোকস।

সবগুলো খবরই ক্রিকেটের জন্য বেশ বড়। কিন্তু ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনায় কেউই নজর দেয়নি সেদিকে। চলুন অল্প অল্প করে জেনে নেওয়া যাক ম্যাচ ও ঘটনাগুলোর টুকিটাকি।

ফুটবল বিশ্বকাপের ডামাডোলে ঘটে যাওয়া ক্রিকেট

আয়ারল্যান্ডের কাছে টি-টোয়েন্টিতে ধবলধোলাই ভারত

টানা দুইবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন ভারত। ২০২৪ এর পর চলতি বছর তথা ২০২৬ আসরের শিরোপাও ভারত ধরে রাখে ঘরের মাটিতে। যুক্তরাষ্ট্র ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে রোহিত শর্মা-বিরাট কোহলিদের চ্যাম্পিয়ন স্বাদের পর তাদের ছাড়াই পরের শিরোপা জেতে সূর্যকুমার যাদবের দল। সেই ভারতকেই নাকানিচুবানি খাইয়েছে আয়ারল্যান্ড। টানা ১৬ সিরিজ জয়ের রেকর্ড থেমে গেলো ভারতের। র‍্যাঙ্কিংয়ের ১১ নম্বর দল মাটিতে নামালো ভারতকে।

প্রথম ম্যাচে লোরকান টাকারের ৫০ ও গ্যারেথ ডেলানির ৪৯ রানে ভর করে ১৮২ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় আইরিশরা। জবাব দিতে নেমে ভারতের ইনিংস থামে ১৪৮ রানে আয়ারল্যান্ডের বোলারদের দাপটে। সর্বোচ্চ ৪৯ রান করেন অভিষেক শর্মা। সমান ৩টি করে উইকেট পান ম্যাথু হাম্প্রেস ও ম্যাথু হোলার্ড। ৩৪ রানে জেতা ম্যাচে সেরা খেলোয়াড় হয়েছিলেন আইরিশদের হোলার্ড।

গতকাল রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে ১ রানের জয়ে ভারতকে হোয়াইটওয়াশ করেছে আয়ারল্যান্ড। বেলফাস্টে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ১৫৪ রান করে স্বাগতিকরা। ৫৩ রান করেন হ্যারি টেক্টর আর ৩৭ রান আসে বেঞ্জামিন কাল্টিজের ব্যাটে। জবাব দিতে নেমে ৯ উইকেটে ১৫৩ রান করে ভারত পুরো ২০ ওভার ব্যাটিং করে। শেষ ওভারে দরকার ছিল ২০ রান। শেষ বলে প্রিন্স যাদব ছক্কা মারার পরও কমতি থাকে ১ রানের। ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হয়েছেন জাই মন্দোরা। আর সিরিজে ৫ উইকেট নিয়ে হয়েছেন সিরিজসেরাও।

ফুটবল বিশ্বকাপের ডামাডোলে ঘটে যাওয়া ক্রিকেট

বাংলাদেশের বিপক্ষে জিম্বাবুয়ের চ্যালেঞ্জ

একমাত্র টেস্টে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়ে মাত্র ১৪০ রানে গুটিয়ে দেয় জিম্বাবুয়ে। সর্বোচ্চ ৬০ রান করেন মুমিনুল হক। ঘরের মাঠে পাকিস্তানকে টানা দ্বিতীয়বার টেস্টে ধবলধোলাই করা বাংলাদেশের ব্যাটাররা জিম্বাবুয়ের বোলারদের তোপে মোটেই সুবিধা করতে পারেননি।

এরপর স্বাগতিক জিম্বাবুয়ে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ইনোসেন্ট কাইয়ার ১৪০, ওয়েসলি মাধেভেরের অপরাজিত ৭৭, ক্রেইগ আরভিনের ৬০ ও ব্রায়ান বেনেটের ৫৯ রানে ৪১০ রানের সংগ্রহে লিড দাঁড়ায় ২৭০ রানের বিশাল লিড। ৭ উইকেট নেন তাইজুল। টেস্টে এ নিয়ে ১৯ ইনিংসে ৫ বা তার বেশি উইকেট নিলেন তিনি। সাকিব আল হাসানও সমান সংখ্যক ফাইফার নিয়েছেন, তাদের উপরে আর কেউই নেই।

দ্বিতীয় দিনের শেষ বিকেলে ব্যাটিং করতে নেমে ১ উইকেট হারিয়ে ৪০ রান সংগ্রহ করে এখনও ২৩০ রানে পিছিয়ে বাংলাদেশ। ৯ রান করে আউট হয়েছেন সাদমান ইসলাম। ২১ ও ৯ রান করে অপরাজিত আছেন মাহমুদুল হাসান জয় ও মুমিনুল হক।

ফুটবল বিশ্বকাপের ডামাডোলে ঘটে যাওয়া ক্রিকেট

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বেন স্টোকসের অবসর

বেন স্টোকসের নাম নিলেই মাথায় আসে কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে কার্লোস ব্রাথওয়েটের কাছে চার বলে চার ছক্কা খেয়ে ইংল্যান্ডের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা হাতছাড়া করা। সেখান থেকে ২০১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনালের ঘরের মাঠে বিশ্বজয়ের নায়কও তিনি। জীবনের নানা রূপ ও রং তিনি দেখে ফেলেন এই ক্রিকেট ক্যারিয়ারে। অর্জনের খাতায় কমতি নেই। জিতিয়েছেন দলকে ২০২২ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপও। যে বিশ্বকাপ ভারতের মাটিত তিনিই হারিয়েছিলেন।

জন্মভূমি নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় টেস্টে নটিংহ্যামে গার্ড অব অনার পান স্টোকস। অধিনায়ক হিসেবে অবশ্য শেষটা ভালো হয়নি তার। শেষ ম্যাচে ১৬০ রানে কিউইদের কাছে পরাজিত হওয়ার পাশাপাশি সিরিজ হেরেছে ২-১ ব্যবধানে। প্রথম ইনিংসে ১৫ রান করার পর দ্বিতীয় ইনিংসে ওপেনিংয়ে নেমে করেন এর দ্বিগুণ ৩০ রান। দুই ইনিংস মিলিয়ে পেয়েছেন ৬ উইকেট। তার অধীনে সবশেষ অ্যাশেজে বাজে ফলাফল করে ইংল্যান্ড। ৪-১ ব্যবধানে হারে অস্ট্রেলিয়ার কাছে।

টেস্ট ক্যারিয়ারে ১২১ ম্যাচে ৩৫ গড়ে ৭ হাজার ২২৮ রান করেছেন স্টোকস। আছে ১৪টি সেঞ্চুরি ও ৩৭টি হাফসেঞ্চুরি। ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ২৫৮। ওয়ানডেতে ১১৪ ম্যাচে করেছেন ৩ হাজার ৪৬৩ রান। ৫ সেঞ্চুরির পাশাপাশি আছে ২৪ অর্ধশতক। টি-টোয়েন্টিতে ৪৩ ম্যাচে ৫৮৫ রান নামের পাশে। সর্বোচ্চ অপরাজিত ৫২ রান। বল হাতে টেস্টে ২৪৬, ওয়ানডেতে ৭৪ ও টি-টোয়েন্টিতে তার শিকার ২৬ উইকেট।

ফুটবল বিশ্বকাপের ডামাডোলে ঘটে যাওয়া ক্রিকেট

প্রথম টেস্টে ইনিংস ও ২১৭ রানে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হার শ্রীলঙ্কার

অ্যান্টিগায় টস জিতে সফরকারী শ্রীলঙ্কাকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক রস্টন চেজ। প্রথম ইনিংসে ধনাঞ্জয়া ডি সিলভার ১২০ রানের ইনিংসের পর শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ দাঁড়ায় ৩০৮। লঙ্কানদের হয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৫৪ রান আসে দিনেশ চান্দিমালের ব্যাটে। ৪৩ রান করেন সোনাই দিনুশা।

এরপর নিজেদের প্রথম ইনিংসে তুমুল দাপট দেখায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। লঙ্কান বোলারদের তুলোধুনো করে আমির জঙ্গো হাঁকান ডাবল সেঞ্চুরি। আউট হওয়ায়র আগে করেন ২৩৩ রান। ১৯ চার ও ৩ ছক্কায় ইনিংসটি সাজান তিনি। দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন অধিনায়ক রস্টন চেজও। মাত্র ৬ রানের জন্য মিস করেন ডাবল সেঞ্চুরি। ১৯৪ রানে আটকা পড়েন তিনি ১৩ চার ও দুই ছক্কায় ইনিংস সাজিয়ে। জঙ্গো ও চেজ জুটি গড়েন ৪০১ রানের।

দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ক্যারিবীয় বোলারদের তোপে মাত্র ১০১ রানে গুটিয়ে যায় শ্রীলঙ্কা। সর্বোচ্চ ৪৩ রান করেন দিনেশ চান্দিমাল। এই ম্যাচে ৩০০ উইকেট শিকার করেন কেমার রোচ। ম্যাচসেরা হয়েছেন ডাবল সেঞ্চুরি করা আমির জঙ্গো। ইনিংস ও ২১৭ রানে ম্যাচটি জিতে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে গেছে স্বাগতিকরা।

আইএন/এএসএম