মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলায় নিখোঁজের ১৯ দিন পর বাড়ির উঠান থেকে জায়েদা বেগম (৩৮) নামের এক গৃহবধূর মাটিচাপা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার মুন্সীবাজার ইউনিয়নের করিমপুর চা বাগান এলাকা থেকে লাশটি উদ্ধার হয়। এর আগে গৃহবধূর স্বামী আলমগীর আলী পুলিশের কাছে স্ত্রী হত্যার স্বীকারোক্তি দেয়। তার তথ্য অনুযায়ী গতকাল জালাল আহমদ, আমিনুল ইসলাম ও নুরুল ইসলাম নামে তিনজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

জায়েদা একই ইউনিয়নের সোনাটিকী গ্রামের আব্দুল হান্নানের মেয়ে। এই দম্পতির ছয় বছরের একটি ছেলে রয়েছে। বীভৎস এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুরোজেলায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। লাশ তোলার সময় ঘটনাস্থলে রাজনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিপুল শিকদার উপস্থিত ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৮ জুন থেকে জায়েদা বেগম নিখোঁজ ছিলেন। এ সময় স্বজন ও প্রতিবেশীরা তার খোঁজ জানতে চাইলে স্বামী আলমগীর আলী দাবি করেন, তার স্ত্রী বিদেশে চলে গেছেন। কিন্তু দীর্ঘদিন কোনো খোঁজ না পাওয়ায় নিহতের বাবা আব্দুল হান্নান ৩ জুলাই রাজনগর থানায় জিডি করেন। তদন্তে নেমে পুলিশ আলমগীরকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে প্রথমে সে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেয়। পরে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদে স্ত্রীকে হত্যা ও লাশ উঠানে আট ফুট গভীর গর্ত খুঁড়ে মাটিচাপা দিয়ে রাখার কথা স্বীকার করে। সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম বলেন, নিখোঁজের ঘটনায় জিডি হওয়ার পর তদন্তের অংশ হিসেবে আলমগীরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে সে হত্যার দায় স্বীকার করে। দাম্পত্য কলহের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। তবে অন্য কেউ এতে সম্পৃক্ততা রয়েছে কিনা তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।