‘সবাই ক্ষমা করে দিয়েন আমাকে। ভালো থেকো প্রিয় বউ। সবকিছু শেষ আমার।’ শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে নিজের ফসবুক আইডিতে এ কথাগুলো লিখেছিলেন রাঙ্গুনিয়ার মরিয়মনগর ইউনিয়নের ফুলগাজীপাড়া ৬নং ওয়ার্ড এলাকার যুবক মোহাম্মদ তানভীর হোসেন। স্ট্যাটাস দেওয়ার কিছুক্ষণ পরই বাড়ির পাশের কর্ণফুলী নদীর চরের একটি গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায় তার নিথর দেহ। স্থানীয় সূত্র জানায়, সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রবাসী তানভীর কুরবানির ঈদ উপলক্ষ্যে ছুটিতে দেশে এসেছিলেন। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে আবার কর্মস্থলে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু সেই ফেরা আর হলো না। মৃত্যুর আগে নিজের ফেসবুক আইডিতে তানভীর লিখেছিলেন, ‘আমার মৃত্যুর কারণ আমার চাচা শ্বশুর, এতবড় অপবাদ না দিলেও পারতে। সবাই ক্ষমা করে দিয়েন আমাকে। ভালো থেকো প্রিয় বউ। সবকিছু শেষ আমার।’ স্ট্যাটাসটি প্রকাশের পর তার পরিচিতদের অনেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সন্ধ্যায় বাড়ির পাশে নদীর চরের একটি গাছে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান স্থানীয় লোকজন। পরে স্বজনরা বেসরকারি একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রতিবেশীদের ভাষ্য, হাসিখুশি ও ভদ্রস্বভাবের তানভীরের এমন মৃত্যু তারা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না। তবে ফেসবুক স্ট্যাটাসে তানভীর যে অভিযোগ করেছেন, তার সত্যতা এখনো নিশ্চিত হয়নি। অভিযুক্ত ব্যক্তিরও বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। থানার ওসি জহির উদ্দিন বলেন, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং স্ট্যাটাসে উল্লিখিত বিষয় তদন্ত করে দেখা হবে।