গভীর রাত পর্যন্ত উচ্চ শব্দে মাইক ও সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহারের প্রতিবাদে শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে ব্যতিক্রমী কর্মসূচি পালন করেছেন এক কলেজ শিক্ষক। কানে তুলা গুঁজে, গলায় প্রতিবাদী ব্যানার ঝুলিয়ে এবং হাতে থালা-চামচ বাজিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের সামনে প্রতীকী অবস্থান নিয়ে তিনি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
আজ রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে প্রায় ১০ মিনিট ধরে এ কর্মসূচি পালন করেন উপজেলার হাজী নুরুল হক নন্নী পোড়াগাঁও মৈত্রী কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক মো. নুরুজ্জামান। তিনি নালিতাবাড়ী ইউনিয়নের বাসিন্দা।
গলায় ঝোলানো ব্যানারে লেখা ছিল—‘শব্দদূষণ বন্ধ চাই, নিরাপদ পৃথিবী চাই’। শব্দদূষণে জনজীবনের দুর্ভোগ তুলে ধরতেই তিনি এ প্রতীকী কর্মসূচি পালন করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুরুতে তিনি একাই কর্মসূচি পালন করলেও পরে পথচারী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীসহ অনেকে তাঁর সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন।
পথচারী আফজাল বলেন, ‘এই ব্যতিক্রমী প্রতিবাদ আমাদের সচেতন করেছে। শব্দদূষণে আমরা প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছি। আমি এই উদ্যোগকে সমর্থন করি।’
স্থানীয় ব্যবসায়ী রবিউল মমিন বলেন, ‘উচ্চ শব্দের মাইকের কারণে দোকানে বসে থাকাই কঠিন হয়ে যায়। অনেক সময় ক্রেতাদের কথাও ঠিকমতো শোনা যায় না।’
প্রতিবাদকারী শিক্ষক বলেন, এইচএসসি পরীক্ষা চলাকালেও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিয়ে, খৎনা ও নানা অনুষ্ঠানে গভীর রাত পর্যন্ত উচ্চ শব্দে মাইক ও ডিজে বক্স বাজানো হচ্ছে। এতে পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। ব্যক্তিগতভাবে অনুরোধ করেও কোনো প্রতিকার না পেয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণে তিনি এ প্রতীকী প্রতিবাদের পথ বেছে নিয়েছেন।
কর্মসূচি শেষে তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে শব্দদূষণ রোধে ছয় দফা সুপারিশসংবলিত একটি স্মারকলিপি জমা দেন। স্মারকলিপিতে রাত ১০টার পর উচ্চ শব্দে মাইক বাজানো বন্ধ, আবাসিক এলাকাকে ‘সাইলেন্স জোন’ ঘোষণা, ডেকোরেটর ও সাউন্ড সিস্টেম ব্যবসায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার দাবি জানান।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল মালেক বলেন, স্মারকলিপি পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।








