ইরানের ওপর একের পর এক বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। মধ্যপ্রাচ্যে দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনা এখন চরম রূপ নিয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) বুধবার (১৫ জুলাই) এক বিবৃতিতে দিনের আলোতে নতুন করে এই হামলা চালানোর কথা নিশ্চিত করেছে। এর আগের হামলাগুলো মূলত রাতের বেলাতেই চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।
সেন্টকম জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জন্য ইরান যে সামরিক সক্ষমতা ব্যবহার করে আসছিল, তা ধ্বংস করতেই এই হামলা চালানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক এই নতুন হামলার পরই মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুন
আলোচনায় না এলে ইরানের সব সেতু-বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করে দেবো: ট্রাম্প
ইরানি ঘাঁটিতে হামলা ও প্রাণহানি
ইরানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বামপুরের একটি সামরিক ঘাঁটিতে মার্কিন হামলায় অন্তত সাতজন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, এই হামলায় বেশ কয়েকজন সেনাসদস্য আহতও হয়েছেন। ঘটনার পর ইরানের সেনাবাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কঠোর এবং চূড়ান্ত প্রতিশোধ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
ইরানের সরকারি মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি জানিয়েছেন, গত কয়েকদিনে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে মার্কিন হামলায় ৩০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সাম্প্রতিক এই মার্কিন হামলায় দেশজুড়ে অন্তত ২৬০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।
আরও পড়ুন
ইয়েমেন ঘিরে সৌদি-ইরান লড়াই, নতুন সংঘাতের শঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্য?
ইরানের পাল্টা হামলা
মার্কিন হামলার জবাবে ইরানও পাল্টা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে তেহরান। একই সঙ্গে বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনাগুলোতেও হামলার দাবি করেছে ইরানের বিশেষ বাহিনী আইআরজিসি।
ইরানের পাল্টা হামলার সময় বাহরাইনে সতর্ক সংকেত বা সাইরেন বেজে ওঠে। অন্যদিকে কুয়েত ও জর্ডান দাবি করেছে, তারা তাদের আকাশসীমায় ইরান থেকে ছোঁড়া বেশ কয়েকটি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
কেএএ/








