টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী পৌর শহরের আল মদিনা প্রাইভেট হাসপাতালে টনসিল অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতির সময় চাঁদনী নামে এক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ ওঠেছে। স্বজনদের দাবি, অ্যানেসথেসিয়া প্রয়োগের পর শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং তার মৃত্যু হয়। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, শিশুটিকে অ্যানেসথেসিয়া দেওয়া হয়নি। ঘটনার পর হাসপাতালটি বন্ধ করে মালিকপক্ষ সরে যায়। এ ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সমালোচনার ঝড় ওঠেছে। শুক্রবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত চাঁদনী ধনবাড়ী উপজেলার সয়া গ্রামের আপনের মেয়ে। ঘটনাটি নিয়ে রাতভর সালিশ ও সমঝোতার বৈঠক হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের দাবি, শিশুটির পরিবারসহ বিভিন্ন পক্ষকে অর্থের বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছে। প্রথমদিকে শিশুটির বাবা ধনবাড়ী থানায় হাসপাতালের বিরুদ্ধে অভিযোগ করবেন বলে সাংবাদিকদের জানান। পরে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরুস সালাম সিদ্দিক জানান, শিশু মৃত্যুর খবর তিনি জেনেছেন। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

স্বজনরা জানান, ১৩ হাজার টাকার চুক্তিতে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নাক, কান ও গলা বিভাগের চিকিৎসক ডা. ছাইদুর রহমানের মাধ্যমে চাঁদনীর টনসিল অস্ত্রোপচার হওয়ার কথা ছিল। অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতিকালে হাসপাতালের পক্ষ থেকে অ্যানেসথেসিয়ার দায়িত্বে থাকা ডা. মেহরাব হাসান শিশুটিকে অজ্ঞান করার ইনজেকশন দেন। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে।

স্বজনদের অভিযোগ, পরিস্থিতি সংকটাপন্ন হয়ে পড়লে শিশুটিকে প্রথমে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। আল মদিনা হাসপাতাল থেকে মাত্র কয়েক গজ দূরে অবস্থিত ধনবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে চিকিৎসক মেহরাব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, শিশুটিকে কোনো অ্যানেসথেসিয়া দেওয়া হয়নি। অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতির সময় সে ভয় পেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। কক্ষ থেকে তার দাদিকে বাইরে নিয়ে যাওয়ার পর শিশুটি অজ্ঞান হয়ে যায়। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয় এবং সেখান থেকে ময়মনসিংহে পাঠানোর পথে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে তার মৃত্যু হয়।

তবে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি ও ওই শিশুর দাদির দাবি, অ্যানেসথেসিয়া প্রয়োগের পর চাঁদনীর অবস্থার অবনতি ঘটে এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ বিষয়ে জানতে ডা. ছাইদুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।