রাজধানীর কল্যাণপুরের একটি পুরাতন ভবনের ছাদের চিলেকোঠায় বাবা-ছেলেকে আটকে ভয়াবহ শারীরিক নির্যাতন ও চাঁদা আদায়ের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত তিনজনকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-৪।

র‍্যাব বলছে, মোহাম্মদপুরের আত্মীয়ের বাসা থেকে ছেলেকে নিয়ে সবুজবাগের বাসায় ফিরছিলেন মাহফুজ। কল্যাণপুর এলাকায় দারুস সালাম জামে মসজিদের নিচে একটি দোকান থেকে পানি কেনার জন্য থামেন তারা। পরে পানি নিয়ে মোটরসাইকেল চালু করতেই ৫-৬ ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করেন তাদের। এরপর পার্শ্ববর্তী একটি পুরোনো ভবনের চিলেকোঠায় নিয়ে যাওয়া হয়। চাঁদার দাবিতে চালানো হয় শারীরিক নির্যাতন। পরে বিকাশের মাধ্যমে চাঁদা আদায় করে ভুক্তভোগীদের ভিডিও করে ভয় দেখিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।

রোববার (১৯ জুলাই) রাজধানীর মিরপুরের পাইকপাড়া এলাকায় র‍্যাব ৪ ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব জানান র‍্যাব-৪ এর কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এন রায় নিয়তি।

গ্রেফতাররা হলেন- মো. বিল্লাল (৩৫), মো. জুম্মন (৩০) এবং শেখ মো. ফয়সাল (৩৫)।

কে এন রায় নিয়তি বলেন, কল্যাণপুরে ছাদের চিলেকোঠায় বাবা-ছেলেকে আটক করে নিয়ে ভয়াবহ শারীরিক নির্যাতন ও চাঁদা আদায়ের ঘটনায় র‍্যাব-৪ এর আভিযানিক দল গত (১৮ জুলাই) রাতে দারুস সালাম থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিন জনকে গ্রেফতার করে।

তিনি বলেন, ভুক্তভোগী মোঃ মাহফুজুর রহমান একজন ব্যবসায়ী। তিনি সবুজবাগ থানা এলাকার বাসিন্দা। গত (২ জুলাই) রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার পর মোটরসাইকেলে তার ছেলেকে নিয়ে মোহাম্মদপুরের আত্মীয়ের বাসা থেকে সবুজবাগের বাসায় ফিরছিলেন। পথে কল্যাণপুর এলাকায় দারুস সালাম জামে মসজিদের নিচে একটি দোকান থেকে পানি কেনার জন্য থামেন। পানি নিয়ে মোটরসাইকেল চালু করতেই ৫-৬ ব্যক্তি এসে মাহফুজকে ছেলেসহ দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে একটি গলি দিয়ে একটি পুরোনো ভবনের চিলেকোঠায় নিয়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, সেখানে আসামিরা ভুক্তভোগীকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও শারীরিক নির্যাতন শুরু করে এবং পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। এক পর্যায়ে ব্যাংক হিসাব, মোবাইল ব্যাংকিং ও ফোন তল্লাশি করে পর্যাপ্ত টাকা না পেয়ে বিভিন্ন নিকটাত্মীয়কে ফোন করে টাকা জোগাড় করতে চাপ দেয়। পরে পরিচতি কয়েকজনসহ ভিকটিমের খালাতো ভাইয়ের মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা এনে দেয়। পরবর্তীতে ভিকটিমের মোবাইল ফোন, টাকা-পয়সা ও মোটর সাইকেল রেখে একটি সিএনজিতে উঠিয়ে পাঠিয়ে দেয়।

তিনি বলেন, সিএনজিতে তুলে দেওয়ার আগে তাদের হুমকি দেওয়া হয়, ঘটনা সম্পর্কে পুলিশ বা অন্য কাউকে জানালে আরও ভয়াবহ পরিণতি হবে। পরবর্তীতে ভিকটিম মুগদা মেডিকেল হাসপাতালে দুইদিন ভর্তি থেকে চিৎকসা নেন।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী দারুস সালাম থানায় একটি মামলা করেন। পরবর্তীতে র‍্যাব-৪ তিনজন আসামিকে শনাক্ত করে দারুস সালাম এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ঘটনায় জড়িত আসামিদের গ্রেফতার করে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আসামিরা ঢাকা মহানগরীর দারুস সালাম, শাহাআলী, মিরপুর থানাসহ আশপাশের এলাকায় চাঁদাবাজি, মাদক, আধিপত্য বিস্তারসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িত ছিল। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মাদক, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধে একাধিক মামলা রয়েছে।

গ্রেফতার আসামিদের থানায় হস্তান্তর ও তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

কেআর/এএমএ