ঢাকার সাভারের বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণকেন্দ্র (বিপিএটিসি) এলাকায় পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একটি পাঁচতলা ভবনের ছাদে নিয়ে যায় ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহসভাপতি মো. মনোয়ারুলকে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ‘সেখান থেকে পড়ে’ তার মৃত্যু হয়েছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগ-পুলিশ তাকে ধাক্কা দিয়ে নিচে ফেলে হত্যা করেছে। এ বিষয়ে সাভারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, রংপুর থেকে আসা পুলিশের একটি দল সাভার থানার সহায়তায় ওই অভিযানে যায়। তবে ঘটনার পর তারা ওই থানা পুলিশকে কিছু জানিয়ে এলাকা ছেড়ে চলে যায়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রংপুরের চৌগাছার একটি অপ্রাপ্তবয়স্ক তরুণীর নিখোঁজ মামলার তদন্তে পুলিশ সাভারে আসে। ওই মেয়েটি মনোয়ারুলের ভাগ্নের সঙ্গে পালিয়ে ওই বাড়িতে এসেছে। ওই ঘটনায় রাত ১২টার দিকে সাভার পুলিশের সহায়তায় বিপিটিসিতে অভিযানে যায় রংপুর পুলিশের একটি দল। অভিযানের আগে ওই বাড়িতে ওই দুইজন ছিল। তবে অভিযান শুরুর পর তারা পাশের বাড়িতে আত্মগোপন করায় মনোয়ারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ আটক করে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম শুক্রবার যুগান্তরকে বলেন, অভিযানের সময় ওই ছাত্রদল নেতাকে ভবনের ছাদে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি সেখান থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন। ঘটনার পর পুলিশ দ্রুত স্থান ত্যাগ করলে স্বজনরা আহতকে নিয়ে স্থানীয় হাসপাতালে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, এটি কোনো দুর্ঘটনা নয়, বরং তাকে জিজ্ঞাসাবাদের নামে পরিকল্পিতভাবে ধাক্কা দিয়ে নিচে ফেলে হত্যা করা হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিচারের দাবি জানিয়েছেন।

জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ অভিযুক্তকে থানায় না নিয়ে কেন মধ্যরাতে ভবনের ছাদে নিয়ে গেল, কীভাবে সেখানে থেকে তিনি পড়ে গেলেন, কেনবা এরপর তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে না নিয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করল বা কেন রংপুরের পুলিশ স্থানীয় প্রশাসনকে না জানিয়ে এলাকা ছেড়ে গেল-এসবের কোনো উত্তর দিতে পারেনি পুলিশ প্রশাসন। তবে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনকে জানালে তিনি এখানে কারও দায়িত্বে অবহেলা ছিল কি না, তা তদন্ত করতে নির্দেশনা দিয়েছেন। পাশাপাশি তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে দিয়েছেন তিনি। শুক্রবার সকালে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকার সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো কোনো হত্যা মামলা হয়নি। তবে একটি অপমৃত্যু মামলা ও সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।