ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) কর্মসূচিতে পুলিশি বলপ্রয়োগ, বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা এবং দলটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের গ্রেপ্তারের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছে এনসিপির (জাতীয় নাগরিক পার্টি) যুব সংগঠন জাতীয় যুবশক্তি। একই সঙ্গে সংগঠনটি সিজেপির শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে।

সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রতিবাদ ও সংহতি বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটির সভাপতি তারিকুল ইসলাম এবং সেক্রেটারি ফরহাদ সোহেল এ অবস্থান তুলে ধরেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় শান্তিপূর্ণভাবে মতপ্রকাশ, সমাবেশ ও প্রতিবাদের অধিকার নাগরিকের মৌলিক স্বাধীনতার অংশ। মতপার্থক্যের সমাধান হওয়া উচিত সংলাপ, আইনের শাসন ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে, বলপ্রয়োগ বা দমনমূলক ব্যবস্থার মাধ্যমে নয়।

যুবশক্তির নেতারা বলেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন তথ্য অনুযায়ী শিক্ষাব্যবস্থায় অনিয়ম ও পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া তরুণ-তরুণীদের ওপর পুলিশ লাঠিপেটা ও বলপ্রয়োগ করেছে এবং আন্দোলনের নেতৃস্থানীয় অনেককে আটক করা হয়েছে। এসব তথ্য সঠিক হলে তা নাগরিক স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক চর্চা নিয়ে উদ্বেগের জন্ম দেয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, তরুণদের কণ্ঠস্বর দমন করে নয়, বরং তাদের বক্তব্য শোনা এবং গঠনমূলক সংলাপের মাধ্যমেই গণতন্ত্র শক্তিশালী হয়। তাই তরুণদের ন্যায়সংগত দাবি ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের প্রতি সম্মান দেখানো প্রতিটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি ঘটনার নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করা, অপ্রয়োজনীয় বলপ্রয়োগের অভিযোগ পর্যালোচনা করা এবং শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সাংবিধানিক পরিবেশ বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানায় জাতীয় যুবশক্তি।

একই সঙ্গে সংগঠনটি ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী তরুণ-তরুণীদের প্রতি গণতান্ত্রিক সংহতি প্রকাশ করে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ন্যায়, জবাবদিহি, মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পক্ষে পরিচালিত শান্তিপূর্ণ আন্দোলন শুধু একটি দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়, এটি বিশ্বব্যাপী গণতন্ত্র ও মানবিক মর্যাদার অভিন্ন চেতনার অংশ।