কাপ্তাই বাঁধের ১৬টি গেট খুলে দেওয়ার পর ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর কিছুটা কমেছে। এতে হ্রদের নিম্নাঞ্চলে বসবাসকারী ও বন্যা কবলিত মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে।

কর্ণফুলী পানিবিদ্যুৎকেন্দ্রের সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১৮ জুলাই) সকালে কাপ্তাই হ্রদে পানির স্তর ১০৪.০৮ ফুট এমএসএল-এ পৌঁছালে বাঁধের ১৬টি গেট ৬ ইঞ্চি করে খুলে দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে প্রতি সেকেন্ডে ৯ হাজার কিউসেক পানি কাপ্তাই হ্রদ থেকে কর্ণফুলী নদীতে নির্গত হচ্ছে।

পাশাপাশি, বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিটই সচল রাখা হয়েছে। এই বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে আরো ৩২ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে নিষ্কাশন হচ্ছে। সব মিলিয়ে মোট ৪১ হাজার কিউসেক পানি বের হয়ে যাওয়ার ফলে রবিবার (১৯ জুলাই) সকালে হ্রদের পানির স্তর কমে ১০৩.৮০ ফুটে নেমে এসেছে। 

উজান থেকে পানি নামা অব্যাহত থাকায় গেট এখনো খোলা রাখা হয়েছে। কাপ্তাই হ্রদে সর্বোচ্চ পানি ধারণক্ষমতা ১০৯ ফুট এমএসএল।

কর্ণফুলী পানিবিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মাহমুদ হাসান জানান, হ্রদের পানির উচ্চতা, উজান থেকে আসা পানির প্রবাহ এবং বৃষ্টিপাতের পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে গেট বন্ধ করা হবে। যদি পানির প্রবাহ আরো বৃদ্ধি পায় তাহলে পর্যায়ক্রমে গেটগুলো আরো বেশি খুলে পানি নিষ্কাশনের পরিমাণ বাড়ানো হবে।

এদিকে, রাঙামাটির বাঘাইছড়ি, বিলাইছড়ি ও বরকল উপজেলার নিম্নাঞ্চল থেকে বন্যার পানি নামলেও দুর্গতদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চরম বেগ পেতে হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট এখনো ঘন কাদামাটিতে ছেয়ে আছে, যা পরিষ্কার করে বসবাসের উপযোগী করতে আরো বেশ কিছু দিন সময় লাগবে। এছাড়া বন্যার কারণে ফসলি জমি, রাস্তাঘাট ক্ষতি হওয়ায় আয়ের পথও অনেকেরই বন্ধ রয়েছে। সব মিলিয়ে উপদ্রুত এলাকার মানুষ এখনো সীমাহীন দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন।