ছাতকে যৌতুকের ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা না পেয়ে লুবনা বেগম (৩১) নামের এক গৃহবধূকে দা দিয়ে কুপিয়ে নৃশংসভাবে জখম করার অভিযোগ উঠেছে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার পর স্বামী সুমন পলাতক রয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করছেন। গত উপজেলার নোয়ারাই ইউপির জোড়াপানি গ্রামে স্বামীর বসতঘরে এই মানবিক ঘটনা ঘটে। বর্তমানে গুরুতর আহত ওই গৃহবধূ চিকিৎসা শেষে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তার বাবার বাড়িতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।এ ঘটনায় ভুক্তভোগী লুবনা বেগমের ভাই সিলেট জেলার বিশ্বনাথ উপজেলার জয়নগর গ্রামের আজাদ মিয়া বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার রাতে ছাতক থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।

জানা যায়, আনুমানিক ১০ বছর আগে লুবনা বেগমের সঙ্গে মো. সুমনের (২৮) বিবাহ হয়। তাদের একটি পুত্র সন্তান রয়েছে। তার স্বামী মাদকাসক্ত হয়ে পড়ায় এবং স্বামীর নির্যাতনের মাত্রা ব্যাপক বৃদ্ধি পায়। এসব কারণে প্রায় এক বছর আগে লুবনা সন্তানসহ বাবার বাড়িতে চলে যান। পরে রাজারগাঁও গ্রামের মৃত তফজ্জুল আলীর ছেলে সাজ্জাদুর রহমান (৪৫) নিরাপত্তার সব দায়িত্ব নিয়ে লুবনাকে পুনরায় তার স্বামীর সংসারে ফিরিয়ে আনেন। তার সংসারে ফেরার পর থেকেই সিএনজিচালিত অটোরিকশা কেনার জন্য তার বাবার বাড়ি থেকে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা যৌতুক এনে দেওয়ার জন্য লুবনার ওপর চাপ ও নির্যাতন শুরু করে তার স্বামী এবং শ্বশুর-শাশুড়ি। লুবনা বেগম বাবার বাড়ির আর্থিক সংকটের কথা জানিয়ে টাকা এনে দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।

একপর্যায়ে শ্বশুর সুন্দর আলীর হুকুমে এবং শাশুড়ির সহায়তায় স্বামী সুমন দা নিয়ে তার স্ত্রী লুবনা বেগমকে হত্যার উদ্দেশ্যে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। দায়ের কোপে লুবনা বেগমের বাম হাতের বৃদ্ধাঙুলের গোড়ায়, বাম হাতের কনুইয়ের নিচে, ডান হাতের পাতায়, বাম পায়ের হাঁটুর নিচে এবং পিঠের দুই দিকে ৪টি গভীর ক্ষত তৈরি হয়। এছাড়া কোপ দিয়ে লুবনার ডান পায়ের বৃদ্ধাঙুল কেটে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়।

বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ লুবনা বেগম। চিকিৎসার কাগজপত্র ও জখমের ছবি সংযুক্ত করে ছাতক থানায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার।