সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার শ্রীপুরে শুক্রবার বিজিবির অভিযানে অবৈধ পাথরবোঝাই চারটি ট্রাক জব্দ ও জব্দকৃত ট্রাক ছিনতাই ঘিরে বিজিবি ও শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে জব্দ করা তিনটি ট্রাক ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে গুলিবর্ষণ করে বিজিবি। এতে ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা দুই ঘণ্টা সিলেট-তামাবিল সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) আশ্বাসে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়।

বিজিবি জানায়, ৪৮ বিজিবির শ্রীপুর বিওপির টহলদল ভোরে শ্রীপুরের খড়মপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে উত্তোলিত ৪টি পাথরবোঝাই ট্রাক জব্দ করে। কয়েক ঘণ্টা পর জব্দ ট্রাকগুলো ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়ার সময় উত্তেজিত শ্রমিকরা জোরপূর্বক ৩টি ট্রাক গুচ্ছগ্রাম এলাকায় নিয়ে গিয়ে পাথর আনলোড করে ফেলে। তবে ১টি ট্রাক পাথর ফেলে যাওয়ার সময় গুচ্ছগ্রাম সড়কের মুখে পৌঁছালে বিজিবি সেটি আটকে সমর্থ হয়। এই ট্রাক আটকের জেরে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শ্রমিকরা সিলেট-তামাবিল সড়ক অবরোধ করে। শ্রমিকদের অভিযোগ, বিজিবি সদস্যরা এক ট্রাক শ্রমিককে শারীরিকভাবে মারধর করে আহত করেছে এবং এক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়েছে, যার শব্দে গুচ্ছগ্রাম এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

৪৮ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ নাজমুল হক জানান, উত্তেজিত শ্রমিকদের সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং বিজিবি সদস্যদের নিরাপত্তার স্বার্থে সতর্ক করার জন্য এক রাউন্ড গুলি করা হয়। তিনি বলেন, এ ঘটনায় সরকারি দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং অবৈধ পাথর পাচার চক্রের সদস্যরা শাবলসহ পাথর উত্তোলনে ব্যবহৃত জিনিস দিয়ে বারবার বিজিবির ওপর আক্রমণ করার চেষ্টা করে। তারা জোরপূর্বক ৩টি ট্রাক নিয়ে গেলেও একটি আটকে রাখা গেছে।

অন্যদিকে ২ ঘণ্টা অবরোধ চলার পর দুপুর ১২টায় জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুনন্দা রায় ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিবহণ শ্রমিক, ব্যবসায়ী, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং সুষ্ঠু সমাধানের আশ্বাসে শ্রমিকরা অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন।

সুনন্দা রায় বলেন, অবৈধ কাজের বৈধতা দেওয়ার এখতিয়ার প্রশাসনের নেই, পাশাপাশি জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয় এমন কর্মসূচি থেকেও সবাইকে বিরত থাকতে হবে। এ ঘটনায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) পলি রানী দেব ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে আটক ট্রাকটিকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের আদেশ দেন।