ফুটবলে রেফারিং নিয়ে বিতর্ক সব সময়ই ছিল। রেফারির সিদ্ধান্ত নির্ভুল করতে ফুটবলে যুক্ত হয়েছে ভিডিও অ্যাসিসট্যান্ট রেফারি (ভিএআর)। কিন্তু বিতর্ক থামানোর বদলে এই প্রযুক্তি হয়ে উঠেছে বিতর্কের নতুন উৎস। এবারের বিশ্বকাপে প্রায় প্রতি ম্যাচেই ভিএআর-এর কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে তুমুল সমালোচনা হচ্ছে। অনেক দলের স্বপ্নভঙ্গের কারণ হয়েছে ভিএআর। ফুটবলের জন্য ভিএআর আশীর্বাদ নাকি অভিশাপ, এই বিতর্কের মধ্যেই বিষয়টিকে নতুন একটি দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করলেন ক্রোয়েশিয়ার কোচ জ্লাতকো দালিচ। তার মতে, আবেগ হত্যা করে ফুটবলের আনন্দ কেড়ে নিচ্ছে ভিএআর।
কাল সকালে কানাডার টরন্টোয় শেষ বত্রিশের মহানাটকীয় লড়াইয়ে পর্তুগালের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে ক্রোয়েশিয়া। ম্যাচে ক্রোটদের তিনটি গোল বাতিল হয় অফসাইডের কারণে। তিনবারই অফসাইড ধরা পড়ে ভিএআরে। বাতিল হওয়া শেষ গোলটি নিয়েই গোল বেঁধেছে। যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে গনসালো রামোসের গোলে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় পর্তুগাল। এর কিছুক্ষণ পর পর্তুগালের জাল কাঁপিয়ে ক্রোয়েশিয়ার সমর্থকদের উল্লাসে ভাসান ইয়োস্কা গাভার্দিওল। কিন্তু নাটকের তখনো বাকি। ভিএআরের হস্তক্ষেপে থেমে যায় ক্রোটদের উদযাপন। অনেকটা সময় ভিএআর পর্যালোচনার পর মাঠের পাশে রাখা মনিটরে ঘটনার রিপ্লে দেখে গোল বাতিল করে দেন রেফারি। তার মতে, অফসাইডে ছিলেন গাভার্দিওলকে পাস দেওয়া মারিও পাসালচি। রেফারির সিদ্ধান্ত মানতে না পেরে ক্ষুব্ধ ক্রোট সমর্থকরা গ্যালারি থেকে মাঠে বোতল ছুড়তে থাকে। কিছু সময় খেলা বন্ধ থাকার পর যোগ করা সময়ের ১৯ মিনিটে শেষ বাঁশি বাজান রেফারি।
ক্রোয়েশিয়ার গোলটি বাতিল করার সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল কি না, এই প্রশ্নে বিভক্ত বিশ্লেষকরা। তবে ফিফার ব্যাখ্যা অনুযায়ী সিদ্ধান্তটি সঠিক। বলের ভেতরে চিপ থাকায় ভিএআর রেফারিরা যে সূক্ষ্ম বিষয়গুলো নিখুঁতভাবে দেখতে পান, খালি চোখে তা দেখা যায় না। পুরোটাই আধুনিক প্রযুক্তির খেলা। হারের পর রেফারিংয়ের সমালোচনার পাশাপাশি ভিএআর নিয়ে ক্রোট কোচ দালিচ বলেন, ‘আমি বলছি না যে, ভিএআর কখনো সাহায্য করে না; কিন্তু এটি ফুটবলের আনন্দ কেড়ে নিচ্ছে। আবেগ হত্যা করছে। মাঠের অনুভূতিগুলোকে শেষ করে দিচ্ছে। এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়া সত্যিই কঠিন।’
