ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ (ফমেক) হাসপাতালে অস্ত্রোপচার ছাড়াই এক নারী পাঁচটি সন্তান প্রসব করেছেন। তবে জন্মের পর দুটি ও পরে আরও ২ শিশু মারা গেছে। বর্তমানে বেঁচে আছে মাত্র একটি ছেলে শিশু। চিকিৎসকরা বলছেন, নির্ধারিত সময়ের আগে কম ওজন নিয়ে জন্ম নেওয়ায় জটিলতা দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকালে হাসপাতালের লেবার ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। শিশুদের মধ্যে তিনটি ছেলে ও দুটি মেয়ে। নবজাতকদের বাবা মাহামুদুল হাসান ডলার ফরিদপুর সদর উপজেলার ভবুকদিয়া গ্রামের আবুল বেপারীর ছেলে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, দেড় বছর আগে ডলারের সঙ্গে নগরকান্দা উপজেলার বড় কাজুলী গ্রামের চাঁদনী বেগমের বিয়ে হয়। চাঁদনী সন্তান সম্ভবা হওয়ায় একপর্যায়ে জানতে পারেন তার গর্ভে পাঁচটি সন্তান রয়েছে। পরে চিকিৎসকের দ্বারস্থ হলেও নির্ধারিত সময়ের ১২ সপ্তাহ আগে প্রসব বেদনা ওঠে।
ডলারের ভাই ইদ্রিস আলী বলেন, বৃহস্পতিবার রাতের মধ্যেই চার শিশু মারা যায়। সিনিয়র নার্স মিনতি সরকার বলেন, বিকাল ৪টার দিকে ওই নারীকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন স্বজনরা। বিকাল সোয়া ৫টার দিকে প্রথম বাচ্চা প্রসব করেন। এরপর ৩০ মিনিটের মধ্যে বাকি চারটি বাচ্চা আসে। স্বাভাবিকভাবে ৪০ সপ্তাহে বাচ্চা প্রসবের নিয়ম থাকলেও মাত্র ২৮ সপ্তাহে শিশুগুলো জন্ম নিয়েছে। বাঁচ্চাগুলোর ওজন ৫০০ গ্রাম থেকে ৭০০ গ্রামের মধ্যে। কোনোটির আবার চোখও ফোটেনি। মায়ের প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে।
হাসপাতালের নবজাতক ও শিশু ওয়ার্ডে দায়িত্বরত চিকিৎসক প্রীতিরাজ পাল চৌধুরী বলেন, বাচ্চাগুলোর এনআইসিইউ সাপোর্ট প্রয়োজন ছিল, কিন্তু এখানে তা নেই। আমরা ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলাম।
