ফতুল্লায় বিকাশ ব্যবসায়ী মোতালেব মিয়াকে হত্যার দোষ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে জাকির হোসেন। মোতালেব মিয়ার লাশ সড়কের পাশে ফেলে দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতারকৃত ইজিবাইক গ্যারেজ মহাজন সোহেল ও ইজিবাইক চালক ফারুক মিয়াকে আদালত থেকে ২ দিনের রিমান্ড নিয়েছে পুলিশ। শুক্রবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নূর মহসিন এর আদালত ১৬৪ ধারায় জাকির হোসেনের জবানবন্দি গ্রহণ করে। একই আদালত পুলিশের আবেদনে অপর দুজনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। মামলার তদন্তকারী অফিসার ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম জানান, মোতালেব মিয়ার কাছে দীর্ঘদিন আগে দুই হাজার টাকা ধার নেয় জাকির হোসেন। সেই টাকা দেওয়ার কথা বলে মোতালেব মিয়াকে বাসায় ডেকে নেয় জাকির হোসেন। এরপর বাসায় আটকিয়ে মোতালেব মিয়ার কাছে আরও ২০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মোতালেব মিয়াকে এলোপাথারি মারধর করা হয়। একপর্যায়ে মোতালেব মিয়ার কাছ থেকে তার বিকাশের পিনকোড নিয়ে ৬৮ হাজার টাকা জাকির তার মোবাইলে ট্রান্সপার করে নেয়। এরপর মোতালেব মিয়ার মৃত্যু হয়। তারপর রাতেই জাকির দুজনের সহযোগিতায় তোশকে পেঁচিয়ে ইজিবাইকে উঠিয়ে সড়কের পাশে মোতালেব মিয়ার লাশ ফেলে দেয়। তিনি আরো জানান, বৃহস্পতিবার সকালে জামতলা সড়কের পাশ থেকে লাশ উদ্ধারের পর প্রযুক্তির মাধ্যমে জাকির হোসেনকে হত্যাকারী হিসাবে শনাক্ত করা হয়। এরপর বিভিন্ন বাসাবাড়ি ও প্রতিষ্ঠানের সিসিটিভি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, হত্যাকাণ্ডের আগের দিন জাকির হাসতে হাসতে মোতালেব মিয়াকে কাঁধে ধরে তার বাসায় নিয়ে যায়। একই ক্যামেরায় দেখা যায় ওইদিন রাতেই তার বাসা থেকে পেচানো তোশক ইজিবাইকে উঠিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। ইজিবাইকের পেছনে জাকিরসহ ২ জন দৌড়াচ্ছে। নিহত মোতালেব (৬৫) লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ থানার শিবপুর গ্রামের মৃত. সোলেমান মিয়ার ছেলে। তিনি সপরিবারে ফতুল্লার মাসদাইর কবরস্থান এলাকায় ফারুক মিয়ার জাজিরা টাওয়ারের ছয় তলায় বসবাস করতেন।
